আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১ ডিসেম্বর- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছোট বোন শেখ রেহানা এবং ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা তিনটি মামলার রায় আজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত।
সোমবারের এ রায়কে ঘিরে শুধু শেখ রেহানা নয়, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের প্রতিও দৃষ্টি থাকছে মানুষের।
দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলাগুলোতে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রেহানার ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তিনি রাজউকের এলাকায় নিজস্ব আবাসন থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করেন এবং কোনো আবেদন ছাড়াই বোন শেখ হাসিনার কাছে প্লটের আবদার জানান।
মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে তিনি আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং খালার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
দুদকের কৌঁসুলিরা বলছেন, সাক্ষ্যে অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছেন তারা। সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
রেহানার মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞাসহ ১৫ জন। তাদের বিরুদ্ধে নথি বিকৃতি, বেআইনি অনুমোদন, যোগসাজশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারে শেখ রেহানা। ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকার পতন হলে তিনি ভারতে চলে যান। তার পরিবারের সদস্যরাও দেশ ছাড়েন। এর পরপরই বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। পূর্বাচলের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনে রেহানাসহ পরিবারের ছয় সদস্যের নামে বরাদ্দ হওয়া ১০ কাঠার প্লটগুলো নিয়ে তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি ঘটে।
গত জানুয়ারিতে দুদক হাসিনা, রেহানা, টিউলিপসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করে। তদন্ত শেষে আরও দুজনকে যুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও বেশিরভাগ আসামি হাজির হননি। মামলায় পর্যায়ক্রমে সাক্ষ্য দেন রাজউক, ব্যাংক, গৃহায়ন মন্ত্রণালয় ও দুদকের কর্মকর্তাসহ ৩৮ জন।
আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশ করা হলেও তারা আদালতে হাজির হননি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে গত ৩১ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক রবিউল আলম। একই আদালত ববি ও রূপন্তীর মামলাতেও অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
গত ১৩ অগাস্ট মামলা তিনটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সেদিন সাক্ষ্য দেন রেহানার প্লট মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক সালাহ উদ্দিন, রূপন্তীর প্লট মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং ববির প্লট মামলার বাদী সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান।
মামলায় একমাত্র কারাবন্দি আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম। আত্মসমর্পণ করায় গত সপ্তাহে পূর্বাচলের অন্য তিন মামলায় তাকে লঘু শাস্তি হিসেবে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। তার আইনজীবী বলছেন, এই মামলায়ও তার খালাস প্রাপ্য।
রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহ
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহেই পূর্বাচলের তিন মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড এসেছে এবং তার আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। আজকের রায় তাই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত নজর থাকবে টিউলিপ সিদ্দিকের ওপর, যিনি যুক্তরাজ্যের নতুন লেবার সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ছবি : সংগৃহীত
প্লট দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতেও আলোচনায় এসেছে। টিউলিপের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছিলেন, দুদক ‘প্রামাণিক নথি’ দেয়নি। দুদক চেয়ারম্যান পাল্টা প্রশ্ন করেন, নির্দোষ হলে তিনি কেন পদত্যাগ করলেন।
বিচার চলাকালে শেখ হাসিনা, রেহানা, টিউলিপ কেউই দেশে ফিরে আদালতে হাজির হননি। আজকের রায় তাই শুধু আইনগত নয়, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান, আর বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au