মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১ ডিসেম্বর- পাকিস্তানে আইসক্রিম কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কিরণ অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরেছে। তবে ১৭ বছর আগে ইসলামাবাদের বৃষ্টিভেজা একটি দিন তার জীবনের গতিপথ পুরো বদলে দিয়েছিল।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ছোট্ট মেয়েটি আইসক্রিমের খোঁজে বেরিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত পৌঁছায় ইধি ফাউন্ডেশনের হোমে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বড় হয়ে ওঠার পর সেফ সিটি প্রজেক্টের মাধ্যমে পাওয়া একটি সূত্র বদলে দেয় তার ভাগ্য।
কিরণের বয়স তখন মাত্র ১০। ইসলামাবাদের জি ১০ এলাকায় পিসির বাড়িতে থাকত সে। সেদিন বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির সামনের বাজারে আইসক্রিম কিনতে গিয়ে আর ফেরেনি। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পুলিশ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ইধি সেন্টারে জমা দেন। প্রথমে ইসলামাবাদের কেন্দ্র এবং পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিলকিস ইধির তত্ত্বাবধানে করাচির ইধি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কেটে যায় দীর্ঘ ১৭ বছর।

আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কিরণের একটি পুরানো ছবি। ছবি: বিবিসি
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন পাঞ্জাব পুলিশের সেফ সিটি প্রোগ্রামের অন্তর্গত ‘মেরা প্যায়ারা’ দলের সদস্যরা করাচির ইধি সেন্টারে গিয়ে কিরণের সাক্ষাৎকার নেন। খুব অল্প স্মৃতি থাকলেও কিরণ তার বাবা আব্দুল মাজিদের নাম এবং কাসুর জেলার গ্রামের কথা মনে রাখতে পেরেছিল। সেই সূত্র ধরে কাসুরে অনুসন্ধান শুরু হয়।
স্থানীয় মানুষ ও পুরোনো পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় জানা যায়, সেখানেই ১৭ বছর আগে কিরণ নামে একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। কিরণের পুরোনো ছবি ও পরিবারসংক্রান্ত নথি দেখে নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা। এরপর ভিডিও কলে দেখা হয় বাবা-মেয়ের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২৫ নভেম্বর সব আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কিরণকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে কিরণ। ছবি: বিবিসি
কিরণ ফিরে আসার মুহূর্তে আব্দুল মাজিদের চোখের জল থামেনি। তার মামা আসাদ মুনির জানান, এত বছরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর মেয়েকে ফিরে পাওয়া পরিবারের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। স্থানীয় গণমাধ্যমে কিরণ বলেন, পুনর্মিলনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ইধি সেন্টারে থাকার সময় তিনি লেখাপড়া, রান্না ও সেলাই শেখেন এবং কঠিন সময়েও তাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল।
আইসক্রিম কিনতে বেরিয়ে হারিয়ে যাওয়া একটি শিশুর গল্প শেষ পর্যন্ত পরিবারে ফিরে পাওয়ার আনন্দে পরিণত হয়েছে। কিরণের এই ফিরে আসা পাকিস্তানের নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান উদ্যোগের সাফল্যের আরেকটি দৃশ্যমান উদাহরণ।
সুত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au