মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর পোকরোভস্ক দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কো সোমবার শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানায়। দাবি সত্য হলে এটি চলমান যুদ্ধের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ইউক্রেন তা সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতেই রাশিয়া এমন তথ্য ছড়াচ্ছে।
রাশিয়া জানায়, শহরটি ঘিরে দীর্ঘদিন তীব্র লড়াই হয়েছে এবং বহু সেনা হতাহত হয়েছে। পোকরোভস্ক সড়ক ও রেল যোগাযোগের কারণে ইউক্রেনীয় সামরিক সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ঐ রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউক্রেন কিছুদিন ধরেই বিকল্প সরবরাহ পথ ব্যবহার করছিল।
ইউক্রেনের অপতথ্য প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রি কোভালেঙ্কো বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহ রাশিয়া এমন তথ্য প্রচার করবে। তিনি মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের কাছে একটি নির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছাতেও মস্কো এ ধরনের দাবি করছে।
এর আগে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তাদের সেনারা শহর ও আশপাশের এলাকা ধরে রেখেছে এবং রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করছে।
রোববার ফ্রন্টলাইনে যান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে সেনাপ্রধান ভেলারি গেরাসিমোভ তাকে পোকরোভস্ক দখলের তথ্য দেন বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরে প্রকাশিত ভিডিওতে শহরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার পতাকা টানানোর দৃশ্য দেখা গেছে, যা সিএনএনও নিশ্চিত করেছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসেছিলেন ওয়াশিংটন ও কিয়েভের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে শহর দখলের দাবি আসে।
পোকরোভস্ক সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। কোন পক্ষ শহরের নিয়ন্ত্রণে আছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা যায়নি।
সূত্র: সিএনএন