‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ বছর পূর্ণ হলো আজ। দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ও পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই চুক্তি সই হয়েছিল। তবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরসহ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো আজও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে পাহাড়ে অস্থিরতা, অবিশ্বাস ও ক্ষোভ ক্রমেই গভীর হয়েছে।
জেএসএস বর্ষপূর্তির বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর একাধিক সরকার ক্ষমতায় এলেও কেউই বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়নি। চুক্তি স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগ সরকারও মৌলিক ধারা বাস্তবায়নে অগ্রগতি ঘটাতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, দুই–তৃতীয়াংশ ধারা এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় পড়ে আছে।
চুক্তির যেসব মৌলিক ধারা এখনো অনিশ্চিতভাবে ঝুলে আছে তার মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের বিশেষ মর্যাদা রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন জেলা পরিষদের কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তর, পৃথক ভোটার তালিকা তৈরি, স্থানীয়দের দিয়ে পার্বত্য পুলিশ বাহিনী গঠন, এবং ভূমি কমিশনের মাধ্যমে বেহাত হওয়া জমি ফেরত দেওয়া।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে এবং ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি আব্দুল হাফিজকে নিয়োগ দিয়েছে। তবে পাঁচ মাসে একটি বৈঠক হলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার বলেন, পাহাড়ের সংকটের মূলেই রয়েছে ভূমি। এক লাখের বেশি অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী এখনও জমি ফিরে পাননি। অনেকেই ভিটায় ফিরতে পারেননি।
জেএসএস নেতা ও সাবেক সাংসদ উষাতন তালুকদার মনে করেন, আগামী নির্বাচিত সরকারকে উদার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিকে সাংবিধানিকভাবে পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলে বাতিল বা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা পাহাড়ে বসবাসকারী সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিতে জোর দেয়। সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র জব্দ এবং নিরাপত্তা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবিও জানায় সংগঠনটি।
এদিকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে চুক্তি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা জাতীয় সংলাপ আয়োজন করে কার্যকর রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।
২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পাহাড়ে সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা এখনও অনিশ্চিত। অসমাপ্ত চুক্তির ধারা এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ পাহাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। শান্তির প্রতিশ্রুতি নতুন করে জোরালো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au