ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ৩ ডিসেম্বর- অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন খসড়া অনুযায়ী, বিদেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পত্তি নিজের অধিকারে রাখার অভিযোগ উঠলে আদালতে তা খণ্ডন করার দায়িত্ব থাকবে অভিযুক্তের ওপর। অর্থাৎ প্রচলিত আইনের মতো বাদীকে সব প্রমাণ হাজির করতে হবে না। অভিযুক্ত যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, আদালত ধরেই নেবেন তিনি অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং সেই অনুমানের ভিত্তিতেই সাজার রায় দেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জানিয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ না থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করার প্রস্তুতি চলছে।
খসড়ায় মূল আইনের ধারা ৯ এর পর নতুন ধারা ৯ক যুক্ত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আদালত প্রাথমিকভাবে ধরে নেবেন বিদেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পত্তি যার দখলে আছে, তিনি মানি লন্ডারিং অপরাধে জড়িত। অভিযুক্ত যদি আদালতে গিয়ে তথ্য দিয়ে এই অনুমান ভাঙতে না পারেন, তাহলে ওই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে যে রায় দেওয়া হবে তা অবৈধ ধরা হবে না।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনেও এমন একটি উপধারা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির সম্পদ যদি তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় এবং তিনি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে আদালত তাঁকে দোষী বলে ধরে নিতে পারেন। মানি লন্ডারিং সংশোধিত খসড়ায়ও সেই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, অপরাধের অর্থ বৈধ উৎস দেখিয়ে গোপন করা বা বিদেশে পাচার করার প্রক্রিয়াই মূলত মানি লন্ডারিং। সাধারণত তিনটি ধাপে এই কাজ হয়। প্রথম ধাপে অর্থ বৈধ আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে লেনদেনের পর লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করা হয়। শেষ ধাপে সেই অর্থ বৈধ বলে মনে হয় এমনভাবে তুলে ব্যবহারে আনা হয়। এই তিন ধাপ অতিক্রম করায় পাচারের পথ ধরতে প্রমাণ জোগাড় করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক জানিয়েছেন, অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আরও আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সরকারের ধারণা, এই পরিবর্তন প্রয়োগ করা গেলে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে।
মানি লন্ডারিং বিষয়ে কাজ করেন এমন কর্মকর্তারা বলেন, পাচার করা অর্থ সাধারণত ট্যাক্স হ্যাভেনের মতো দেশে লুকানো হয়। তথ্য গোপনীয়তার কঠোর আইন থাকার কারণে বিদেশ থেকে তথ্য আনা কঠিন। তাই প্রমাণ সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ কমাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই নিজের নির্দোষিতা দেখানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত যদি দেশের বাইরে থাকেন, তাহলে কী হবে এমন প্রশ্নে আরেক কর্মকর্তা জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তাকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে। উপস্থিত না হলে বা বিচারকার্যে অংশ না নিলে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। তবে এই ধারা অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। নির্দোষ কেউ যৌক্তিক কারণে আদালতে হাজির হতে না পারলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির রায় হয়ে যেতে পারে।
ভারতসহ কয়েকটি দেশে এমন বিধান আছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের অনেক দেশে নেই। তবুও যেসব দেশে এমন বিধান প্রচলিত, সেখানে বিদেশি রায় স্বীকৃতি দেওয়ার নজির আছে। সরকার পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের অংশ হিসেবেই আইনটি কঠোর করতে চাইছে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি দেওয়া সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সরকারের উদ্দেশ্য যদি হয় পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার পথ সহজ করা, তাহলে কোন কাঠামোতে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে তা স্পষ্ট করতে হবে। যথাযথ কাঠামো না থাকলে প্লি বারগেইনের মতো প্রক্রিয়া অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এমন পরিবর্তন বিচারহীনতার অভিযোগ বাড়াতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তের ক্ষমতা আছে ছয় সংস্থার হাতে। এগুলো হলো সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। এসব মামলার বিচার করে বিশেষ জজ আদালত। সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর এবং অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ২৮ উপায়ে পাচার হয়েছে। বিভিন্ন দেশে ১৯টি আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠালেও এখনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য মেলেনি।
সূত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au