আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৪ ডিসেম্বর- দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি গত নভেম্বর মাসে আরও নাজুক হয়ে ওঠে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এক মাসে মব সহিংসতায় ১৬ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১১ জন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং নিজস্ব অনুসন্ধান বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, সহিংসতার বিস্তৃত চিত্র মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নভেম্বরে অন্তত ২০টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুটি মৃত্যু এবং কারাগারে তিনজন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ও নয়জন হাজতির মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
এইচআরএসএস বলছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা গত মাসে আরও বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন নিহত এবং ২৬২ জন আহত হয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও অন্তঃকোন্দলে ১২ জনের মৃত্যু এবং ৮৭৪ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৩টি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং ৪৭৯ জন আহত হয়েছে। এছাড়া বিএনপি–আওয়ামী লীগ, বিএনপি–জামায়াত এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের সংঘর্ষ মিলিয়ে শতাধিক মানুষ আহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকরাও সহিংসতা ও হয়রানির বাইরে ছিলেন না। নভেম্বরে ২৩টি ঘটনায় ৩৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন আহত, ১১ জন হুমকির মুখে পড়েছেন এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে সাতটি মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অন্তত ৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১১৬৬ জনের নাম উল্লেখ এবং ২৩০১ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। একই সময়ে রাজনৈতিক মামলায় ১৯৯৩ জন গ্রেপ্তার হন, যার মধ্যে ১৭০০ জনের বেশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী। যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে আরও ছয় হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। নভেম্বরে ১৭৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ শিশু-কিশোরীসহ ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার এবং ১৩ জন নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। দুজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৩৬ জন নারী–শিশু।
যৌতুকের কারণে নির্যাতনে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। পারিবারিক সহিংসতায় ২৯ জন নিহত এবং ২৪ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন।
শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও নথিবদ্ধ হয়েছে ১০৩টি। এর মধ্যে ২০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনাও পেছনে নেই। নভেম্বরে ২৫টি ঘটনায় চারজন শ্রমিক নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ১৪ শ্রমিক।
মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, মাসজুড়ে সহিংসতা, রাজনৈতিক দমন–পীড়ন ও নারী–শিশু নির্যাতন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au