চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ ডিসেম্বর- দিনের শেষ ভাগে হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ২৩তম ভারত রাশিয়া শীর্ষ বৈঠক শুরু হবে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, নৌপরিবহন, দক্ষ শ্রমশক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো এই বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা পুতিনকে শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে ত্রিবাহিনীর গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান এবং অন্যান্য অতিথিরা। নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মোদি ব্যক্তিগতভাবে পুতিনকে স্বাগত জানান, তারা পরস্পরকে আলিঙ্গন ও করমর্দন করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে পুতিন রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এরপর হায়দরাবাদ হাউসে মোদি ও পুতিনের শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়, যেখানে দুই নেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। তারপর তারা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মুর্মু পুতিনের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন। এরপর পুতিন ভারত ত্যাগ করবেন।
পুতিনের সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলোসোভ এবং বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন রোসোবোরোনএক্সপোর্ট, রসনেফট ও গাজপ্রম নেফটের প্রতিনিধিরাও। রওনা হওয়ার আগে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।
দীর্ঘ বিরতির শেষে ফের শীর্ষ বৈঠক
পুতিনের এই সফরটি এসেছে ভারত রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর পূর্তির সময়। ২০০০ সাল থেকে দুই দেশ প্রতিবছর পালাক্রমে শীর্ষ বৈঠক করেছে। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৩ সালে পুতিন জি ২০ সম্মেলনেও আসেননি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুতে। অবশেষে ২০২৪ সালে এই বৈঠক আবার শুরু হয়। এ বছর মোদি রাশিয়া সফর করেন এবং চার বছর পর পুতিন ভারতে এসে সেই ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনেন।
যুক্তরাষ্ট্র ফ্যাক্টর এবং তেল বাণিজ্য
ভারত এমন সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনায় বসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দিল্লির আলাপ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে শুল্ক বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় সামরিক সরবরাহকারী। এখন মস্কো ভারতের কাছে আরও বেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ খুঁজছে। দুই দেশ বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
ইউরোপ রাশিয়ান জ্বালানি আমদানি কমিয়ে দেওয়ার পর ভারত সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনতে আরও সক্রিয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ভারত সস্তায় তেল কিনে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সামর্থ্য বাড়াচ্ছে। গত আগস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ভারত বলছে, বিপুল জনসংখ্যার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার তেল প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় গুরুত্ব
রাশিয়া এখনো ভারতের সবচেয়ে বড় সামরিক সরবরাহকারী। ভারত কিছু বছর ধরে সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্য করার চেষ্টা করলেও মস্কোর ওপর এখনো বড়ভাবে নির্ভরশীল। ২০১৮ সালে করা ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অনুযায়ী ভারত পাঁচটি এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাবে, যার তিনটি ইতোমধ্যে পেয়েছে। বাকি দুটি দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ জানাবে দিল্লি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটায় দেরি হচ্ছে বলে রাশিয়ার ব্যাখ্যা।
এ ছাড়া ভারত সু ৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান উন্নত করা, সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ ত্বরান্বিত করা এবং যৌথ মহড়া বাড়ানোর ওপর জোর দেবে। রাশিয়া ভারতের কাছে তার নতুন স্টেলথ যুদ্ধবিমান সু ৫৭ বিক্রির আগ্রহ দেখিয়েছে, যদিও ভারত এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
শুক্রবারের বৈঠকে নৌপরিবহন, স্বাস্থ্য, সার, সংযোগ এবং শ্রমশক্তি বিনিময়ে কয়েকটি সহযোগিতা চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেশি বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au