মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- খুলনায় দেশের একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর প্রায় দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কারফিউ ও সংস্কারকাজের অজুহাতে জাদুঘরটি বন্ধ করা হয়। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিরতার মধ্যে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রধান ফটক টিন ও বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই ফটক আর খোলা হয়নি। জাদুঘরের মূল্যবান নিদর্শনগুলোও এখন অবহেলায় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে।
সাউথ সেন্ট্রাল রোডে নির্মিত আধুনিক ছয়তলা জাদুঘরটি ২০২৪ সালের মে মাসে উদ্বোধনের এক মাস পরই বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধের চিঠিপত্র, পোশাক, অস্ত্র, নির্যাতনের সরঞ্জাম, তিন শতাধিক ছবি, ভিডিও এবং অসংখ্য আর্কাইভ নথি। জাদুঘর-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। অনুদান না পাওয়ায় কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হয়েছে এবং বছরের পর বছর পড়ে থেকে নিদর্শনগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে।
১৯৭১ সালের গণহত্যার ইতিহাস নথিবদ্ধ করার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে খুলনায় ‘১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ গড়ে তোলা হয়। পরে সরকার ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেয় এবং জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে ৩২ কোটি টাকার আধুনিক ভবন তৈরি করা হয়। দেশের ভেতর এবং এশিয়ায় এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম।
জাদুঘরটি ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশমুখে রয়েছে প্লাটিনাম জুট মিলের সেই বয়লার যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। ফটক বন্ধ থাকায় টেরাকোটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা অযত্নে পড়ে আছে। শহীদদের চিঠি থেকে শুরু করে বিরল নথিপত্র সবই এখন তালাবদ্ধ কক্ষে সুরক্ষাহীন অবস্থায় রয়েছে।
ট্রাস্টি সম্পাদক ডা. বাহারুল আলম জানান, রাজনৈতিক কারণে অনুদান বন্ধ হয়ে গেছে। জাদুঘর চালাতে বছরে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা প্রয়োজন, কিন্তু কোনো উৎস থেকেই অর্থ আসছে না। তাঁর দাবি, জাদুঘরটিকে আবার চালু করার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা মহানগর কমান্ডার মনিরুজ্জামান মনি বলেন, জাদুঘরটি জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে সরকারিভাবে পরিচালনা করা উচিত। ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত খুলে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
খুলনার নবাগত জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে এরই মধ্যে দেড় বছর পেরিয়ে গেছে এবং দেশের একমাত্র গণহত্যা জাদুঘরটি এখনও অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au