চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়া আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। নতুন আইনে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হবে, তারা যেন নাবালকদের কোনোভাবেই অ্যাকাউন্ট খুলতে না দেয়। এতে বাবা মায়ের অনুমতিও কাজে আসবে না। সরকার বলছে, এই কঠোর পদক্ষেপ কিশোরদের মানসিক সুস্থতা ও অনলাইন নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিতের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে কার্যকর পরিবর্তন হয়নি। সাম্প্রতিক গবেষণা ও অভিযোগে দেখা গেছে, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর নকশা ও এলগরিদম কিশোরদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মেটা, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা নকশার মাধ্যমে কিশোরদের আসক্ত করে রাখার চেষ্টা করেছে। ইনস্টাগ্রামের বিউটি ফিল্টার শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও খাদ্যজনিত সমস্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলেও গবেষণা বলছে।
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কিশোরদের উদ্বেগ বাড়ে, আত্মমর্যাদা কমে এবং তারা আসক্তির মতো আচরণ দেখায়। যৌন শোষণ, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের ঝুঁকিও বেড়েছে। সময়মতো এসব অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি ওঠে।
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই আইনকে ‘অতিরিক্ত সেন্সরশিপ’ বলে সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সন্তানের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অভিভাবকদের হওয়া উচিত। বয়স যাচাই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
তবে ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউটিউব এআই দিয়ে বয়স অনুমান করে, স্ন্যাপচ্যাট চালু করেছে কিশোরদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট। মেটা চালু করেছে ইনস্টাগ্রাম টিন অ্যাকাউন্ট, যেখানে সীমিত কনটেন্ট ও নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় অংশই কার্যকর নয়।
অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ। হুইসলব্লোয়াররা জানিয়েছেন, কোম্পানির ভেতরে নিরাপত্তার চেয়ে এনগেজমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। অভিযোগে বলা হয়েছে, মেটার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ এমন একটি ফিল্টার সরানোর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন, যা কিশোরদের শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা কমাতে পারত।
অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন নীতি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিজি, গ্রিস, মাল্টা, নরওয়ে ও ডেনমার্কসহ বেশ কিছু দেশ নীতি প্রণয়নের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলোচনা করছে। সিঙ্গাপুর ও ব্রাজিলও আইনটির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করছে।
আইন ভঙ্গের জন্য সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জরিমানার পরিমাণ আচরণ পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট না হলেও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করবে অন্তত কিছু নিয়ন্ত্রণ মানতে।
নতুন আইন তুলে ধরেছে কিশোরদের সুরক্ষা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার মধ্যকার দ্বন্দ্ব। সমালোচকরা বলছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো কিছু পরিবর্তন আনলেও ঝুঁকির মূল জায়গাগুলো ঠিকমতো সামলানো হয়নি।
যেভাবে আইনটি বাস্তবায়িত হবে এবং অন্যান্য দেশ এতে অনুপ্রাণিত হয়ে এমন নীতি গ্রহণ করবে কি না, তা এখন আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au