চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১১ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু বছরের পুরোনো জোটভাঙা এবার নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন পাশাপাশি চললেও আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সেই সম্পর্ক এখন অতীত। আদর্শগত ব্যবধান এবং নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নিজেদের একটি উদার ও গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে।
ঢাকার রাস্তায় নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশ বাড়ছে। ২৮ মে ২০২৫ তারিখে তোলা এক ছবিতে দেখা যায়, বিএনপি কর্মীরা রাস্তায় নেমে ভোটের দাবি তুলছেন। একই সময়ে দলটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা আর জামায়াতের সঙ্গে এক মঞ্চে নয়।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ১৬ মাস পর এই পরিবর্তন সামনে এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে কঠোর দমননীতির অভিযোগে তার দীর্ঘ শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে। সেই পরিস্থিতিই দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূত্রপাত।
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নিজেদের উদার রাজনীতির ধারক হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকেরা দেখিয়েছেন, দলটি মুক্তিযুদ্ধের বয়ান নিজেদের মতো করে সাজিয়ে রেখেছিল। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতের জোট মূলত আওয়ামী লীগের বিরোধিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল, যদিও আদর্শগতভাবে দুটি দল ভিন্ন পথে ছিল।
এখন সেই ভাঙন আর ঢেকে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় অংশীদার থাকা এই দুই দল আজ পুরোপুরি আলাদা পথে।
সম্প্রতি বক্তব্যে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, মানুষ জানে ১৯৭১ সালে কী ঘটেছিল। তিনি সরাসরি নাম না বললেও ইঙ্গিত ছিল পরিষ্কার। একইভাবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, ধর্মের নামে দেশকে বিভক্তির রাজনীতি চলতে পারে না।
বিএনপি মনে করছে, আওয়ামী লীগ বাদ হয়ে যাওয়ার পর উদার, ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের যে জায়গাটি অনেক দিন ধরে শূন্য, সেটিই তারা দখল করতে পারে। জামায়াতের অতীত ভূমিকা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সেই পথে বাধা বলে দেখা দিয়েছে।
বিএনপি বুঝতে পেরেছে যে নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের পুনর্গঠন করা জরুরি। ২০২৪ সালের যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর দেশে যে গণতান্ত্রিক আশা তৈরি হয়েছে, তাতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আকর্ষণ হারাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণ ভোটার, শহুরে মধ্যবিত্ত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং উদারপন্থী নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে বিএনপি নতুন অবস্থান নিচ্ছে।
জামায়াতের সঙ্গে বিচ্ছেদ দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা মতপার্থক্যেরও ফল। সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন ঘিরে রোডম্যাপ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে দুই দলের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিএনপির এই রূপান্তর সত্যিকারের আদর্শগত পরিবর্তন কিনা, না কি নিছক নির্বাচনী কৌশল এই প্রশ্নই এখন মুখ্য। দলের ভেতরেও এই পরিবর্তন নিয়ে মতভেদ আছে। একই সঙ্গে যুব-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ও অন্যান্য নাগরিক সমাজভিত্তিক শক্তিও উদারপন্থী ভোটে ভাগ বসাতে পারে।
তারপরও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে সুযোগ বেশি দেখছে বিএনপি। নিজেদের কেন্দ্র-ডান পরিচয় ছাড়িয়ে তারা এখন একটি বিস্তৃত গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্মের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
২০২৫ সালের বিএনপি আর আগের বিএনপি নয়। দলের নেতারা এখন এমন রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন যা অন্তর্ভুক্তি, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রীকরণের ওপর ভিত্তি করে। এই রূপান্তর ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে পারলে এটি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং আওয়ামী লীগের ফেলে যাওয়া উদার-রাজনৈতিক জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিএনপি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই রূপান্তর টিকে থাকলে এটি নব্বইয়ের দশকের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদর্শগত পুনর্গঠন হয়ে উঠতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au