চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১১ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা চার শতাধিক ছাড়িয়েছে। যা ২০০০ সালের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশনগুলোর মশা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তাদের কৌশল পুরানো, পরিকল্পনা দুর্বল এবং সঠিক কোনো নীতি বা পলিসি নেই।
সবশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু এবং ৪২১ জন ডেঙ্গুতে সংক্রমণের পর এই বছরের মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ৭০৫ জন। যা গত ২৫ বছরে চতুর্থ সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে সময় ১ হাজার ৭০৫ জন মানুষ মারা যায়। ওই বছরই সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয় ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। অন্য বছরগুলোতে এই মৃত্যু সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০২৪ সালে ৫৭৫ জন, ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০১৯ সালে ১৭৯ জন, ২০২১ সালে ১০৬ জন এবং ২০২০ সালে ছিল মাত্র ৭ জন।
এই সময়ে মোট সংক্রমণের হিসেবে ২০১৯ সালে ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪, ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজারর ২১৪ জন, ২০২৫ সালে ৯৮ হাজার ৭০৫, ২০২২ সালে ৬২ হাজার ৩৮২ জন, ২০২১ সালে ২৮ হাজার ৪২৯ জন এবং ২০২০ সালে ১ হাজার ৪০৫ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মূল কারণ হলো, তাদের পুরনো কৌশল, দুর্বল পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ছাড়াই পরিচালিত কার্যক্রম। সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ ও দেশব্যাপী মনিটরিং ছাড়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সফল হবে না।
এ জন্য বারবার অকার্যকর পদ্ধতি প্রয়োগ বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ নিয়ে প্রাণীবিজ্ঞানী জি এম সাইফুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এই বছরের প্রাদুর্ভাবকে ত্বরান্বিত করেছে। পূর্বে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজেট ও কাঠামো থাকলেও এবার তা ভেঙে পড়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ, কারণ সেখানে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেই। আগাম বৃষ্টিপাতও মশার প্রজনন ত্বরান্বিত করেছে।
তিনি আরও জানান, সংক্রমণ শুরু থেকে সঠিকভাবে রেকর্ড করা হয়নি, ফলে সময়মতো কোনো নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এই ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ডেঙ্গু পরিস্থিতি এমনভাবে বাড়ার প্রধান কারণ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞানী কবিরুল বাশার বলেন, মাঠ কার্যক্রম প্রতি দুই মাসে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত, এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত মনিটরিং রিপোর্টের ভিত্তিতে।
তার মতে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই সিটি কর্পোরেশনে আগে ১২৯ জন কাউন্সিলরের দায়িত্ব থাকলেও এখন তা এককভাবে প্রশাসকের ওপর নির্ভর করছে।
এ জন্য তিনি স্থানীয় সরকারের কাঠামো দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে বিলম্বিত ভর্তি ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বড় কারণ। অনেক রোগী দূরবর্তী জেলা থেকে মারাত্মক অবস্থায় আসেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক এইচ এম নাজমুল আহসান বলেন, অনেক রোগী দীর্ঘ যাত্রার পর গুরুতর অবস্থায় বড় হাসপাতালগুলোতে পৌঁছান। বিলম্বিত চিকিৎসা রোগীর ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ঢাকার বাইরে চিকিৎসকরা প্রায়ই যথাযথ ডেঙ্গু-প্রশিক্ষণ পান না, এবং ছোট হাসপাতালগুলোতে সম্পদ সংকট রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ মুস্তক হোসেন বলেন, দ্রুত সনাক্তকরণ এবং বিকেন্দ্রীকৃত চিকিৎসা অপরিহার্য। যদি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা সুবিধা থাকত, যেমন করোনার সময় ছিল, সংক্রমণ আগেই শনাক্ত করা যেত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকায় কার্যকর প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রায় নেই, মূলত তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে নির্ভরশীল, আর গ্রামীণ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা এখনও দুর্বল। দেশের স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা শক্তিশালী করা অত্যাবশ্যক।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au