চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১২ ডিসেম্বর- কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সীমান্ত সংঘাতের মধ্যেই সংসদ ভেঙে দিয়েছে থাই প্রধানমন্ত্রী। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল রাজকীয় ডিক্রি জারি করে সংসদ ভেঙে দেন। ফলে আগামী ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হবে।
শুক্রবার প্রকাশিত ডিক্রিতে আনুতিন জানান, মাত্র তিন মাস আগে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পর থেকেই তার প্রশাসন সীমান্তে প্রাণঘাতী সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা চ্যালেঞ্জ সামলাচ্ছে। তার ভাষায়, সংসদ ভেঙে দেওয়া জনগণের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার উপযুক্ত উপায়।
ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আনুতিন ২০২৩ সালের অগাস্টের পর থেকে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বর ক্ষমতায় আসার সময়ই তিনি জানুয়ারির শেষ নাগাদ সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক অনাস্থা ভোটের আশঙ্কা সামনে রেখে তিনি সেই সময় আরও এগিয়ে আনেন।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে গত মাসে আনুতিন ও তার ভূমজাইথাই পার্টি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বন্যায় অন্তত ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়। এই চাপের মধ্যেই কম্বোডিয়ার সঙ্গে আবারও সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে।
রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের অনুমোদিত ডিক্রিতে আনুতিন লিখেছেন, সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক উপায় প্রয়োগ করে জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও দেশ পরিচালনায় স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার প্রশাসন ধারাবাহিক ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে এমন সময়ে যখন আনুতিনের সরকারকে টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে বড় সমর্থক পিপলস পার্টি তার পাশ থেকে সরে দাঁড়ায়। তরুণসমর্থিত এই প্রগতিশীল দল ও ভূমজাইথাই পার্টি মতাদর্শগতভাবে বিপরীত মেরুতে। তবে শর্তসাপেক্ষে তারা আনুতিনকে সমর্থন দিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানের সংস্কার এবং চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেওয়া। পিপলস পার্টির অভিযোগ, ভূমজাইথাই এই চুক্তি রক্ষা করেনি। শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল দলটি। তার আগের দিন তারা প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ ভাঙার আহ্বানও জানায়।
সংসদ ভাঙার পর ভূমজাইথাই পার্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে দেখা হবে।
গত এক বছর ধরে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত। আদালত এ সময়ে দুইজন প্রধানমন্ত্রীকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পদচ্যুত করেছে। আনুতিনের আগে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করা হয়, কারণ ফাঁস হওয়া এক ফোন কলে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনকে “চাচা” বলে ডাকেন এবং থাই সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেন। তার আগের প্রধানমন্ত্রী স্রেত্তা থাভিসিনকেও বরখাস্ত করা হয়, অভিযোগ ছিল তিনি এমন একজন সাবেক আইনজীবীকে মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দিয়েছিলেন যিনি আগে কারাবন্দি ছিলেন।
থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন আবারও অনিশ্চয়তায়। সামনে ঘোষণা আসছে নির্বাচনের তারিখ, আর দেশজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au