গ্রেফতার হওয়া ১৪ আসামিকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত/ কোলাজ , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। কয়েকজন অসুস্থ থাকায় রিমান্ড শুরুর আগে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ডে পাঠানোদের মধ্যে আছেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বদিউল কবির, সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহীন গোলাম রাব্বানী ও নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১৪ জন। প্রসিকিউশনের এসআই জিন্নাত আলী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারের পর শাহবাগ থানার এসআই কেএম রেজাউল করিম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীরা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন এবং সচিবালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তাদের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিল এবং আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা অনুসন্ধানে রিমান্ড অপরিহার্য।
আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সচিবালয় এলাকার নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে ডিএমপি ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু গ্রেফতার আসামিরা নির্দেশনা অমান্য করে সচিবালয়ের ভেতরে সমবেত হন। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।
আসামিদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তারা আদালতে জানান, প্রথম দুইজনকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে অন্যরা তাদের দেখতে গিয়েছিলেন মাত্র। কেউ খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন, কেউ খোঁজ নিতে। কিন্তু সেখান থেকেই বাকিদের আটক করা হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বুধবার সচিবালয়ে কর্মরত সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। গ্রেফতার ও মামলার পর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনাও চলছে।