‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর- সুদানে জাতিসংঘের একটি শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার দেশটির কেন্দ্রীয় কোরদোফান অঞ্চলের কাদুগলি শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও আটজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে মহাসচিব গুতেরেস জানান, কাদুগলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি লজিস্টিকস ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হতাহত সবাই আবেই অঞ্চলের জন্য গঠিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী ইউএনআইএসএফএ-তে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী।
গুতেরেস বলেন, “সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী লজিস্টিকস ঘাঁটিতে চালানো এই ভয়াবহ ড্রোন হামলার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দক্ষিণ কোরদোফানে শান্তিরক্ষীদের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য অবশ্যই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
সুদানের সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফকে দায়ী করেছে। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা বিদ্রোহী মিলিশিয়া ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ধ্বংসাত্মক মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জাতিসংঘের ওই স্থাপনার ওপর ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আরএসএফের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে এই হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিহতের সংখ্যা ছয়জন এবং আহত হয়েছেন আটজন। ইউনূস জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে।
আবেই অঞ্চলটি সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার একটি বিতর্কিত তেলসমৃদ্ধ এলাকা। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে ইউএনআইএসএফএ মিশনে প্রায় চার হাজার পুলিশ ও সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের মূল কাজ ওই অঞ্চলের বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এদিকে গুতেরেস সুদানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি সর্বজনগ্রাহ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুদানি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান সম্ভব।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়, যা দ্রুত রাজধানী খার্তুমসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে কোরদোফান অঞ্চল সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের দখল নেওয়ার পর থেকে। এই যুদ্ধের ফলে শহর ও জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গণধর্ষণ ও জাতিগত হত্যাকাণ্ডসহ ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, যেগুলোকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে এবং সুদানের বিভিন্ন অংশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি আরও গভীর হয়েছে। উল্লেখ্য, এই হামলার মাত্র এক মাস আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইউএনআইএসএফএ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au