দুই মামলায় চিন্ময়ের জামিন হলেও মুক্তি মিলছে না
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্তি মিলছে না বলে…
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর-আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের শেষ পর্যায়ে, দেশের মানুষ যখন চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
সরকার এখন পর্যন্ত দুই দফায় মোট ৩৩৪ শহীদ বুদ্ধিজীবীকে গেজেটের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে ফেনীর ১০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ফেনীর শহীদ কবি ও সাংবাদিক সেলিনা পারভীন এখনও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হননি। প্রথম গেজেটে ফেনীর ৮ জন বুদ্ধিজীবীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় পর্বে আরও তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সেলিনা পারভীনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমনের স্মৃতিচারণায় জানা গেছে, ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের সকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও আলবদররা সেলিনা পারভীনের বাসায় ঢুকে তাকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে তার গলিত লাশ ১৮ ডিসেম্বর মিরপুর ও রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়। কঠোর শীত ও নির্মম অত্যাচারে লাশ চিহ্নিত করা ছিল কঠিন, কিন্তু তার পরিচয় সাদা পোশাক, মোজা ও জুতার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সেলিনা পারভীনের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ সাংবাদিকদের নামের ‘নাম ফলক’-এ তার নাম অঙ্কিত, ডাক বিভাগ ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরিজ ৯১’-এ তার নামে ডাকটিকেট প্রকাশ করে। বাংলা একাডেমি ও বিভিন্ন প্রকাশিত গ্রন্থে তার জীবন ও অবদান সংযোজন করা হয়েছে। তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্রেও তাকে নিয়ে কাজ হয়েছে। ঢাকার রাস্তাগুলোর একটি অংশ তার নামে ‘শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৩১ সালের ৩১ মার্চ ফেনীতে জন্ম নেওয়া সেলিনা পারভীন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীভূত ছিলেন এবং স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তবে সরকারি গেজেটে এখনও তার নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া, ফেনীর সচেতন মহল ও বিশিষ্ট সমাজকর্মীরা বিষয়টিকে উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন। সমাজকর্মী আসাদুজ্জামান দারা ঢাকা পোস্টকে বলেন, “বুদ্ধিজীবীদের আমরা প্রাপ্য সম্মান দেখাতে পারিনি। শহীদদের ব্র্যান্ডিং করা, তাদের বীরত্বগাঁথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব, যা অনুপস্থিত। সেলিনা পারভীনের স্বীকৃতি না পাওয়া সরকারের উদাসীনতার প্রতিফলন।”
আজকের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে, দেশের সর্বত্র শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে লুকিয়ে থাকা এই আলোচিত নারী বুদ্ধিজীবীর নামের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান এখনো পূর্ণতা পায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au