মেলবোর্ন ১৫ ডিসেম্বর- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা জাতিকে মেধাশূন্য করার হীন উদ্দেশ্যে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের। জাতির এই সূর্যসন্তানদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় সাকিব আল হাসান লিখেছেন, ‘এদিন—মহান বুদ্ধিজীবী দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা। যাদের রক্তে লেখা হয়েছে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’
অন্যদিকে, জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যাদের কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মৃত্যু কি আর তাদের চিন্তা থামিয়ে দিতে পারে? সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা।’
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষপ্রান্তে, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দুদিন আগে এই পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে তালিকা ধরে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনদের চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। ১৯৭২ সালের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার ৭০ জন।
শহীদদের স্মরণে ঢাকার মিরপুর ও রায়েরবাজারে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় ও শোকের আবহে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।