চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- ডিসেম্বর এলেই বাংলাদেশে শুরু হয় বিজয় দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি। প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ ছিল সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু। তবে পরপর দুই বছর এই কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা ঘিরে প্রশ্ন ও বিতর্ক বাড়ছে।
গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের মেয়াদের চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০২৪ সালের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়। এক বছর পর ২০২৫ সালেও একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
গত ১৯ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে এবারও নানা কর্মসূচি থাকবে এবং আয়োজনের পরিসর আগের চেয়ে বাড়ানো হবে। তবে রাজধানীসহ সারা দেশে কোনো পর্যায়েই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থিরতার আশঙ্কা না থাকলেও প্যারেড আয়োজন করা হচ্ছে না।

পাঁচই ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রস্তুতির সময় না পাওয়ায় কুচকাওয়াজ হচ্ছে না
এরপর ৫ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, কুচকাওয়াজ বন্ধ করার পেছনে কোনো বিশেষ কারণ নেই। তিনি বলেন, গত বছরের আগস্টের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার সেনাসদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকায় কুচকাওয়াজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, কুচকাওয়াজ না হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদানের সাংবিধানিক রেওয়াজ একটি বড় কারণ হতে পারে। তার মতে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগের সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য তাকে কুচকাওয়াজে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা বিব্রতকর।
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবায়দা নাসরীন মনে করেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন কুচকাওয়াজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, কুচকাওয়াজ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি বিজয় দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শৃঙ্খলা, সামরিক কৌশল ও রাষ্ট্রীয় গৌরবের প্রতীক। অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজন দিয়ে এই ঐতিহাসিক রেওয়াজের বিকল্প তৈরি করা যায় না।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, কুচকাওয়াজ না হলেও বিজয় দিবস উদযাপনে ঘাটতি থাকবে না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর সকালে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

কুচকাওয়াজ না হলেও এবছর নানা আয়োজনে বিজয় দিবস পালন করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, ছবিঃ বিবিসি
এ ছাড়া তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে তিন বাহিনীর যৌথ ফ্লাই-পাস্ট মহড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে সামরিক প্রদর্শনী, বিজয় মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন রাখা হয়েছে। সরকার বিশ্বের সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ের মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।
তবু পরপর দুই বছর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ বন্ধ থাকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি কেবল একটি আয়োজন বাতিল নয়; বরং বিজয় দিবসের ঐতিহ্যগত প্রতীক থেকে সরে আসার একটি বার্তা, যার স্পষ্ট ব্যাখ্যা সরকারের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করছেন তারা।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au