আগামীকাল হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের নারীরা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নারী এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দারুণ আত্মবিশ্বাসে আছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা-এ অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে আগামীকাল…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গুলি চালানোর ঘটনায় হামলাকারী হিসেবে বাবা ও ছেলের পরিচয় নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের তথ্যমতে, হামলায় জড়িত ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি একটি গান ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং তার আগ্নেয়াস্ত্র রাখার বৈধ লাইসেন্স ছিল। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি।
রোববার বিকেলে বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হানুকাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই গুলির ঘটনা ঘটে। সে সময় সেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের বয়স ১০ থেকে ৮৭ বছরের মধ্যে।

হামলার ঘটনাস্থলে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে মানুষ , ছবিঃ বিবিসি
পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানান, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, হামলাকারী বয়স্ক ব্যক্তির কাছে ‘ক্যাটাগরি এ বি’ লাইসেন্স ছিল, যা দীর্ঘ অস্ত্র রাখার অনুমতি দেয়। ২০১৫ সাল থেকে ওই লাইসেন্স তার নামে নিবন্ধিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই হামলাকে নৃশংস ও ঘৃণাজনিত সহিংসতা হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠানে ইচ্ছাকৃতভাবে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা অস্ট্রেলীয় সমাজের জন্য গভীর আঘাত।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি অংয়ের সঙ্গে ফোনালাপে হামলার নিন্দা জানান। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কোনো আপোষ চলতে পারে না।
ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার বন্ডি প্যাভিলিয়নে একটি স্মৃতিসৌধ স্থাপন করেছে। সেখানে নিহতদের স্মরণে ফুল দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। তিনি একই সঙ্গে রক্তদানে এগিয়ে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে একে সামাজিক সংহতির দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বলে জানান।
এই হামলার পর অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ইহুদি উপাসনালয় ও জনসমাবেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বন্ডি বিচ অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ও জনবহুল সমুদ্রসৈকত। সেখানে এমন একটি হামলা দেশটিতে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাবোধকে নাড়া দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au