চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৭ ডিসেম্বর- আটককেন্দ্রে রাখা অভিবাসীদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে বলে রায় দিয়েছে দেশটির হাই কোর্ট। এক বাংলাদেশি ও এক মিসরীয় অভিবাসীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এই রায় দেওয়া হয়। আদালত বলেছে, আটক অভিবাসীদের মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বিচারক জেফোর্ড উল্লেখ করেন, ইউরোপিয়ান কনভেনশন অব হিউম্যান রাইটসের ধারা-৩ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে অমানবিক বা অবমাননাকর পরিস্থিতিতে রাখা নিষিদ্ধ। কিন্তু আটক অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের নেওয়া ব্যবস্থাগুলো কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, এই ব্যর্থতা শুধু সাম্প্রতিক নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এবং তা বেআইনি।
মামলার বাদী দুই অভিবাসীর একজন বাংলাদেশি ও অন্যজন মিসরীয় নাগরিক। ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই এবং ২০২৪ সালের ১১ মার্চ তাদের আটক করা হয়। আটক হওয়ার পর তাদের ব্রিটেনের বুক হাউস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। এই কেন্দ্রটি আগেও আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ ও অবহেলার অভিযোগে আলোচিত হয়েছে। ২০১৭ সালে বিবিসির এক প্রতিবেদনে সেখানে আটক অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রুক হাউস পাবলিক ইনকোয়ারিতেও এসব উদ্বেগের পুনরাবৃত্তি হয়।
মামলায় যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিষয়ক আইনের ধারা-৩৫ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। ওই ধারায় আটককেন্দ্রে চিকিৎসকের উপস্থিতি এবং আটক ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যা প্রবণতার ঝুঁকি মূল্যায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চিকিৎসকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদীরা।
মামলার নথিতে বলা হয়, দুই অভিবাসীই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং আত্মহত্যার আশঙ্কার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। এর আগে এসিডিটি নামে পরিচিত ব্রিটেনের আত্মহত্যা প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায়ও তাদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতার ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছিল। সে কারণে তাদের নজরদারিতে রাখা হলেও, আটককেন্দ্রে রাখার সিদ্ধান্তে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারক জেফোর্ড বলেন, বহু বছর ধরেই সুরক্ষা সংক্রান্ত এই আইনি প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে না। বিশেষ করে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ধারা-৩৫ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কম। এ বিষয়ে আদালতের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মামলার দুই বাদী। তাদের আইনজীবী লিওস কেট বলেন, এই রায় আটক অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
এদিকে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, আটক ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে পরিচালনার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে আটক অবস্থায় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আদালতের এই রায়ের ফলে যুক্তরাজ্যের আটককেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au