বাংলাদেশ

ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর ছায়ানট বন্ধ ঘোষণা

  • 3:41 pm - December 19, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৩৫১ বার

মেলবোর্ন, ১৯ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের সংস্কৃতি ভবনে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ছায়ানট জানিয়েছে, “অনিবার্য কারণে ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের ক্লাসসহ ছায়ানটের সকল কার্যক্রম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একদল উশৃঙ্খল ব্যক্তি ধানমন্ডিতে অবস্থিত ভবনটিতে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেয়।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর জানার পর ছায়ানট ছাড়াও আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও ভবনে তাণ্ডব চালায় কথিত ছাত্র-জনতা। তারা দেশের প্রধান সংবাদপত্র দৈনিক প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুল লাগিয়ে দেয়। সেখানে আটকে পড়ে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাতের কোনো এক সময় হামলাকারীরা ভবনের ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে।

“একপর্যায়ে তারা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”

পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত অভিযানের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে হামলা ও আগুনে ভবনের ভেতরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, ভবনের ভেতরে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন কক্ষে কাচ ভাঙা, দেয়াল ও আসবাবে আগুনে পোড়া দাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ছবি: সংগৃহীত

ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে শিশুদের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নানা ধরনের নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলে। দেশের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বাঙালিকে আপন সংস্কৃতি ও দেশীয় বৈশিষ্ট্যে স্বাধীনসত্তায় বিকশিত হতে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ছায়ানট এর আগে প্রাণঘাতি হামলার মুখেও পড়েছে। পাকিস্তানি শাসকদের বাধা উপেক্ষা করে ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রজন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং তার সূত্র ধরে পরে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের জন্ম।

প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করে এটি পরিচিতি পেয়েছে। বর্ষবরণেই সেই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটিই ২০০১ সালে ভয়াবহ এক বোমা হামলার শিকার হয়। এতে প্রাণ য়ায় ১০ জনের এবং আহত হন বেশ কয়েকজন।

এরপরও দমে যায়নি ছায়ানট; সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সংগীতের দুই পুরোধা ওয়াহিদুল হক ও সন‌্জীদা খাতুনের নেতৃত্বে এগিয়ে যায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।

এই শাখার আরও খবর

বন্ডাই হামলার অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, মুক্তি পাচ্ছেন দণ্ডিত আইএস সদস্য

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নাভিদ আকরামের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ থাকা দণ্ডিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্য আইজ্যাক এল মাতারি আগামী রোববার কারাগার থেকে…

বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান

বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে টোকিও।…

সৌদি আরবে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে তেল স্থাপনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এক দিনে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে…

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু: কিছু প্রশ্ন, প্রোপাগান্ডার অভিযোগ এবং বিচারের দাবি

সজীব ওয়াজেদ জয় :  রহস্যজনক মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার ওপর নেমে আসা ভয়াবহ…

এবার আওয়ামী লীগ নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যা করলো কারা?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকার বাসা থেকে আওয়ামী লীগের নেত্রী নুর নাহার বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাসার পেছনের দরজা খোলা…

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর জুনিয়র বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। নিখোঁজ হওয়ার আগে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au