ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২০ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস। তিনি ছিলেন একজন গার্মেন্টস কর্মী এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য।
NDTV–এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দীপু চন্দ্র দাসের বাবা রবিলাল দাস জানান, ঘটনার খবর তারা প্রথম জানতে পারেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে। পরে একের পর এক মানুষের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, দীপুকে মারধর করা হয়েছে এবং তাকে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে।
রবিলাল দাস বলেন, “ফেসবুকে প্রথম দেখি। এরপর সবাই বলতে শুরু করে। পরে একজন এসে বলে, আমার ছেলেকে খুব মারধর করা হয়েছে। আধা ঘণ্টা পর আমার এক আত্মীয় এসে জানায়, ওকে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরে তার ছেলের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। “পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা ছিল ভয়াবহ,” বলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করতেন এবং পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন, যা শহরের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কারখানার ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় দ্রুত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। পরে উত্তেজিত জনতা দীপুকে মারধর করে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
ভালুকা মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, হত্যার পর দীপুর মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং তাতে আগুন ধরানো হয়। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাংলাদেশের সরকার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, র্যাব-১৪ একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী, নিজাম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক মহল থেকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au