আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২০ ডিসেম্বর- দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার বন্ধ করে দিতে হবে বলে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও ছাত্রশিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
মোস্তাকুর রহমান বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। তাঁর ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ যেসব সংবাদপত্র তিনি ‘সুশীল’ বলে আখ্যা দেন, সেগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওই কর্মসূচিতে যদি এসব পত্রিকার কোনো সাংবাদিক উপস্থিত থাকেন, তাহলে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাজশাহীতে মোস্তাকুর রহমান যখন সংবাদপত্র দুটি বন্ধের হুমকি দেন, তার কিছু সময় আগেই ঢাকায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সন্ত্রাসীদের একটি অংশ ঢাকার কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ডেইলি স্টারের কার্যালয়েও হামলা চালায় এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ভবনের ভেতরে ডেইলি স্টারের বহু কর্মী আটকা পড়েন। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদ করে দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষক ক্লাস নিতে পারবেন না। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, হাদি ভাইয়ের রক্ত থেকে লক্ষ হাদি জন্ম নেবে এবং রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশন থাকার কোনো অধিকার নেই।
রাকসুর ভিপির এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, মোস্তাকুর রহমান রাকসুর ভিপি হিসেবে না ছাত্রশিবিরের সভাপতি হিসেবে এসব কথা বলছেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, রাকসু ও ডাকসুর নেতাদের এমন বক্তব্য আদৌ মব সৃষ্টির উসকানি কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভেবে দেখা উচিত।
শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক হয়ে সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেঙে সেখানে পাবলিক টয়লেট স্থাপনের ঘোষণা দেন। পরে বুলডোজার ব্যবহার করে কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু তাঁর ফেসবুক পোস্টে পুরো পরিস্থিতিকে একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক নাটক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, একদিকে শিবির নেতারা সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধ্বংসের হুমকি দেবে, অন্যদিকে শীর্ষ নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করবেন। এরপর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিন্দা জানানো হবে। আর সাধারণ মানুষ এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু নীরবে দেখবে।
রাকসুর ভিপির বক্তব্য এবং এর পরপরই ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
সূত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au