অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরিতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির অ্যালিস স্প্রিংস থেকে নিখোঁজ পাঁচ বছরের শিশু শ্যারন গ্রানাইটসের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর বুধবার…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে শনিবার রাতে বিক্ষোভ ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙা ও হাইকমিশনারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ঢাকা, তবে নয়াদিল্লি বলছে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
শনিবার রাতে দিল্লির কূটনৈতিক এলাকা চানক্যপুরীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের খবর প্রথমে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও শুরুতে ভারত বা বাংলাদেশ, কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। রোববার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। এর কিছুক্ষণ পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
এরপরই প্রকাশ্যে আসে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে ‘হিন্দু চরমপন্থীদের’ একটি দল নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মূল ফটকের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেয়। তিনি দাবি করেন, ভারতের পক্ষ থেকে হাইকমিশনের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে উদ্ধৃত করে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশি কিছু গণমাধ্যম এ ঘটনায় বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার রাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো পর্যায়েই তারা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেননি বা কোনো ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার ভিজ্যুয়াল প্রমাণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করা হয়।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শনিবার রাত নয়টার দিকে হাইকমিশনের সামনে ‘হিন্দু চরমপন্থীদের’ একটি দল বিক্ষোভ করে।
তারা বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এ সময় তারা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে গালিগালাজ করে।
কিছুক্ষণ অবস্থানের পর এক সময় তারা সেখান থেকে চলে যায়।
গতকাল রাতের ওই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে কােনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়নি।
তবে, বিকেলে ঢাকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অভিযোগ করেছেন, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে তৌহিদ হোসেন প্রশ্ন তোলেন, কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে কীভাবে একটি দল এতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, “তার মানে তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে। যেভাবেই হোক তারা এসেছে। আসার কথা নয়, কিন্তু এসেছে।” তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা শুধু হত্যার প্রতিবাদই করেনি, বরং আরও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সাধারণত দূতাবাস বা হাইকমিশনের এলাকায় কোনো বিক্ষোভ হলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মিশনকে জানানো হয় এবং পুলিশ দূরেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। তিনি আরও বলেন, হাইকমিশনার ও তার পরিবার সেখানে বসবাস করেন এবং ঘটনার সময় তারা আতঙ্কিত বোধ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু পোশাক শ্রমিককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তবে র্যাব জানিয়েছে, এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছে। ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সন্দেহভাজন হামলাকারীরা ভারতে পালিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো খবরে ভারতবিরোধী আবেগ আরও উসকে ওঠে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au