হত্যাচেষ্টা মামলায় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি নতুন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। অতি শক্তিশালী এই ব্যাটলশিপগুলোর নাম রাখা হবে তাঁর নিজের নাম অনুসারে। নৌবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উচ্চাভিলাষী এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন তিনি ‘গোল্ডেন ফ্লিট’।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প ক্লাস ইউএসএস ডিফায়েন্ট’ নামে পরিচিত এই নতুন যুদ্ধজাহাজগুলোর নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, আগামী আড়াই বছরের মধ্যেই এসব রণতরি সমুদ্রে পূর্ণ সক্ষমতায় মোতায়েন করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি ব্যাটলশিপ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হলেও তাঁর লক্ষ্য এমন অন্তত ২৫টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই জাহাজগুলো হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, দ্রুতগামী ও শক্তিশালী ব্যাটলশিপ। তাঁর ভাষায়, এগুলোতে থাকবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ এমন সব উন্নত অস্ত্র, যা আগে কেউ দেখেনি। তিনি এসব জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ ‘ফ্ল্যাগশিপ’ হিসেবে তুলে ধরেন।
ঘোষণার সময় ট্রাম্পের পাশে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান। মঞ্চে বড় পোস্টারে প্রদর্শিত হয় ‘ট্রাম্প ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজের কল্পিত নকশা। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এসব জাহাজ সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই নির্মিত হবে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, প্রেসিডেন্ট নিজেই তাঁর কাছে একটি ‘বিশাল ও সুন্দর’ ব্যাটলশিপ তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই বহরে শুধু বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি, ছোট দ্রুতগামী নৌযান এবং চালকবিহীন নৌযানও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘোষণার পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণের মোট অর্ডারের ৬০ শতাংশের বেশি পেয়েছে চীন। সংখ্যার দিক থেকে চীনের নৌবাহিনী বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম।
এরই মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনী ছোট ও মাঝারি যুদ্ধজাহাজের ঘাটতির কথাও স্বীকার করেছে। নৌ অপারেশনপ্রধান ড্যারিল কডল এক ভিডিও বার্তায় জানান, লোহিত সাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চল পর্যন্ত চলমান অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ছোট যুদ্ধজাহাজ বর্তমানে হাতে আছে। তাঁর মতে, বড় যুদ্ধজাহাজগুলোকে বড় সংঘাতের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে দ্রুতগামী ছোট নৌযানের বিকল্প নেই।
তবে সমালোচকরাও সতর্ক করছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নেওয়া ‘কনস্টেলেশন-ক্লাস ফ্রিগেট’ প্রকল্পটি সময় ও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়। প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার খরচের পরও মাত্র দুটি জাহাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। নতুন পরিকল্পনাও একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তি বাড়ানো হয়েছে। মাদক পাচার ঠেকাতে সাম্প্রতিক অভিযানে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প এসব অভিযানের সাফল্যের দাবি করলেও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এসব পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সব মিলিয়ে, ‘ট্রাম্প ক্লাস’ ব্যাটলশিপ ও ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ পরিকল্পনা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এক বড় রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দিচ্ছে। বাস্তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au