শেখ হাসিনা ,ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও সহিংস পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘নখ-দন্তহীন’ আখ্যা দিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এএনআইকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউনূস কার্যত অন্যের ইশারায় চলছেন এবং তার সরকার চরমপন্থী ও মৌলবাদী শক্তির হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে।’
তার দাবি, ইউনূসের মন্ত্রিসভায় কট্টরপন্থীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, জেল থেকে সন্ত্রাসবাদীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে জনজীবনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, তার দেশত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং তার পর দেশজুড়ে যে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ইউনূস সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, ‘এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আইন-শৃঙ্খলাহীনতার প্রতিফলন। ইউনূসের অধীনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হিংসা এখন যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শেখ হাসিনা মনে করেন, এই অস্থিরতা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করছে না, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তার ভাষায়, ‘যখন একটি সরকার নিজের দেশের ভেতর ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে পড়ে।’
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার ঘটনায় ইউনূস সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ধর্মনিরপেক্ষতাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, অথচ বর্তমান শাসনে সেই ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ছে।’
চট্টগ্রামে ভারতের ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারতের উদ্বেগ যুক্তিসংগত। একটি দায়িত্বশীল সরকার কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু ইউনূস সরকার উল্টো হুলিগানদের রক্ষা করছে এবং তাদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার মতে, চরমপন্থী শক্তিগুলি ইউনূসকে সামনে রেখে বিদেশে একটি সংযত ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অথচ দেশের ভেতরে কঠোর ও কট্টর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি শুধু ভারতের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে বিনিয়োগকারী সব দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।