‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩ জানুয়ারি- ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের একটি বড় অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এখনো ৭১৩ জন ফেরারি রয়েছে। এদের মধ্যে দুর্ধর্ষ অপরাধী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট মামলার বন্দিরাও রয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময় কারাগার থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্রও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ও পরে দেশের ১৭টি কারাগারে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে নরসিংদী, শেরপুর ও সাতক্ষীরা কারাগারের সব বন্দিই পালিয়ে যান। নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান ৮২৬ জন, শেরপুর কারাগার থেকে ৫০০ জন এবং সাতক্ষীরা কারাগার থেকে ৬০০ জন বন্দি। এ ছাড়া কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালান ১০৫ জন এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ জনের বেশি বন্দি পালিয়ে যান। জামালপুর কারাগারে বড় ধরনের সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেখান থেকে কোনো বন্দি পালাতে পারেননি।
সব মিলিয়ে সে সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ২৩২ জন বন্দি পালিয়ে যান। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ১ হাজার ৫১৯ জনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া সম্ভব হলেও এখনো ৭১৩ জন পলাতক রয়েছে। একই সময়ে কারাগারগুলো থেকে ৬৭টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে এখনো ২৭টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক মামলা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এদের অনেকেই পেশাদার সন্ত্রাসী। ফলে তারা পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। চলমান খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনার পেছনে পলাতক বন্দিদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া অনেক বন্দিই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছে। তারা সহজ প্রকৃতির অপরাধী নন। নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বা রাজনৈতিক সহিংসতায় তারা টাকার বিনিময়ে ব্যবহৃত হতে পারেন। দ্রুত বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব বন্দিকে গ্রেপ্তার করে তাদের বাকি সাজা কার্যকর করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনা প্রথম ঘটে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে। ওই দিন হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে কারাগারে হামলা চালায়, সেলের তালা ভেঙে দেয় এবং আগুন লাগায়। এতে নিষিদ্ধ সংগঠনের নয়জন সদস্যসহ মোট ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান। হামলার সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও খাদ্যসামগ্রী লুট হয় এবং কারাগারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জীবন বাঁচাতে কারারক্ষীরাও একপর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হন।
এর পরদিন সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও দুর্ধর্ষ অপরাধীদের রাখা এই কারাগার থেকে দেয়াল টপকে ও ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন বন্দিরা। সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পালানোর সময় নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হন।
পরবর্তীতে ৮ আগস্ট জামালপুর কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালানোর চেষ্টা করলে গুলিতে ছয়জন বন্দি নিহত হন এবং আহত হন কারা কর্মকর্তা ও বন্দিসহ ১৯ জন। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানে কোনো বন্দি পালাতে পারেননি।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত কারাগারগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে এবং পলাতকদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সূত্রঃ বণিক বার্তা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au