‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে দেখা যাচ্ছে। গত বছর ২০২৫ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের সবার শরীরেই পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২৪ সালে নিপাহ ভাইরাসে দেশে মোট পাঁচজন আক্রান্ত হন এবং সবাই মারা যান।
বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।
সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর শীত মৌসুমে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ে। এটি অত্যন্ত মারাত্মক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যেখানে মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ পর্যন্ত। তিনি জানান, দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো কাঁচা খেজুরের রস পান করা। পাশাপাশি প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এই বাস্তবতা যে, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী এবং নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার সভায় জানান, দেশের ৩৫টি জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে জনমত গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও সেই উদ্দেশ্যেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলা। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা, আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল না খাওয়া এবং ফলমূল ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au