আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- বন্ডাই বিচে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তদন্তের পরিধি বাড়াতে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। অ্যান্টি-সেমিটিজম এবং বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে গঠিত ফেডারেল রয়্যাল কমিশনের নেতৃত্বে সাবেক হাই কোর্ট বিচারপতি ভার্জিনিয়া বেলকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আলবানিজ সরকার।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন। রয়্যাল কমিশনের কার্যপরিধি বা টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করতে এখনো আলোচনা চললেও, ফেডারেল পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দিকেই সরকার এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি অংশ ফেডারেল কোর্টের বিচারপতি মাইকেল লিকে কমিশনের প্রধান করার দাবি জানালেও শেষ পর্যন্ত সরকার ভার্জিনিয়া বেলকেই বেছে নিয়েছে। বিচারপতি লি এর আগে ব্রুস লারম্যানের দায়ের করা মানহানি মামলার বিচার পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে আদালত সম্ভাবনার ভারসাম্যের ভিত্তিতে মত দেন যে লিবারেল দলের সাবেক ওই কর্মী ব্রিটানি হিগিন্সকে ধর্ষণ করেছিলেন।
এই রয়্যাল কমিশন নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের ঘোষিত তদন্তের সঙ্গে যৌথ হবে কি না, কিংবা সাবেক এএসআইও প্রধান ডেনিস রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা তদন্তের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভার্জিনিয়া বেল এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের একাধিক মন্ত্রণালয় গোপনে নিজের হাতে নেওয়ার কেলেঙ্কারি তদন্তেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্টে এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে বিচারক ছিলেন। পাশাপাশি ১৯৯৫-৯৬ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ সার্ভিস বিষয়ক রয়্যাল কমিশনে কাউন্সেল অ্যাসিস্টিং হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক প্রধান বিচারপতি জেমস স্পিগেলম্যান একাধিকবার ভার্জিনিয়া বেলের কমনওয়েলথ ক্রিমিনাল কোড সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায় তার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। ২০১৬ সালে তাকে স্যার জন মনাশ ওরেশন প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যা দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অ্যান্টি-সেমিটিজমবিষয়ক বিশেষ দূত জিলিয়ান সিগাল।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ডাই হামলার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ও নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স যৌথ রাজ্য-কমনওয়েলথ রয়্যাল কমিশন গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।
রয়্যাল কমিশনের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এটি কমনওয়েলথ সরকার, তার প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সাক্ষ্য বা নথি আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা রাখে না। ফেডারেল রয়্যাল কমিশনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় এর আগেও একাধিক যৌথ রয়্যাল কমিশন হয়েছে। আদিবাসী হেফাজতে মৃত্যুবিষয়ক রয়্যাল কমিশন (১৯৮৭-৯১), প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতন তদন্ত কমিশন (২০১৯-২৩) এবং শিশু যৌন নিপীড়নবিষয়ক রয়্যাল কমিশন এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
এই ধরনের যৌথ তদন্তে গভর্নর-জেনারেল কমনওয়েলথ লেটার্স পেটেন্ট জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর গভর্নররা সমান্তরালভাবে একই কমিশনার ও অভিন্ন কার্যপরিধি অনুমোদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সম্প্রতি জানিয়েছেন, এনএসডব্লিউ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার রয়্যাল কমিশনের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা আলোচনা করছি এটি কীভাবে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গেও কথা বলছি, যেন সামাজিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
এদিকে সরকার ও বিরোধী শিবির উভয় দিক থেকেই চাপ রয়েছে, যাতে রয়্যাল কমিশন শুধু অ্যান্টি-সেমিটিজম নয়, বন্ডাই হামলার আগের ঘটনাপ্রবাহও খতিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা পায়।
সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব মাইক পেজুলো বলেছেন, মন্ত্রীদের তদন্তের বাইরে রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তার মতে, এই কমিশনের উচিত অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিস্তার, ইসলামপন্থী চরমপন্থার স্থায়ী হুমকি এবং এসবের পেছনের মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করা।
লেবার দলের একাধিক সংসদ সদস্য চান, সাবেক এএসআইও প্রধান ডেনিস রিচার্ডসনের গোয়েন্দা তদন্তের পাশাপাশি অ্যান্টি-সেমিটিজম নিয়ে পৃথক রয়্যাল কমিশন চলুক। দলের এক সূত্র জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ আগেও রয়্যাল কমিশনের সম্ভাবনা খুব কম ছিল, কিন্তু এখন সেটি প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লে দ্রুত ফেডারেল রয়্যাল কমিশন ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেরি করছে এবং ভুক্তভোগীদের কথা উপেক্ষা করছে।
এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ জানিয়েছেন, সরকার অ্যান্টি-সেমিটিজম মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব পথ খতিয়ে দেখছে এবং এ বিষয়ে সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
বন্ডাই হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা, কাঠামো ও সমন্বয় ব্যবস্থা যাচাই করতে ডেনিস রিচার্ডসনের তদন্ত চলবে। তবে লেবার দলের একটি বড় অংশের মত, অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিস্তৃত ও কাঠামোগত চিত্র তুলে ধরতে রয়্যাল কমিশনই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au