বাংলাদেশ

হাদির হত্যার জন্য দায়ী ইউনূস সরকারের শাসনব্যবস্থা- এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

  • 4:58 pm - January 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫৪ বার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও এর সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান আইনশৃঙ্খলার ভাঙন ও নির্বাচনী সহিংসতা।

হাসিনা বলেন,
“শরীফ ওসমান হাদির হত্যা ছিল একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা, যা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে চলমান বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার সরাসরি ফল।”

তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এটিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের উদ্দেশ্য নিজেদের চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া, সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা এবং সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করা।

ভারতের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে ঢাকার কিছু মহলের অভিযোগকে “ইচ্ছাকৃত ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের পেছনে রয়েছে মৌলবাদী শক্তি, যারা ইউনূস সরকারের ব্যর্থতাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

তিনি আরও বলেন,
“ভারতের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র টানার চেষ্টা একটি সাজানো বয়ান, যা জনমতকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু দশকের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

হাসিনা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করেছে।
“এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর,” তিনি বলেন।

হাদির হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা

শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান।

তার মৃত্যুর পর ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর কার্যালয় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। একই সময়ে ময়মনসিংহে এক হিন্দু কারখানা শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এত বড় সহিংসতার পরও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা বা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

সূত্র: ndtv.com/world-news

এই শাখার আরও খবর

বিতর্কিত ১০০ কোটি ডলারের এলএনজি চুক্তি, বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ের একটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক…

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও ছয় মাস চলতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত আরও অন্তত ছয় মাস চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা।…

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…

কোণঠাসা বিজেপি কি ফের কট্টর হিন্দুত্বের পথে?

টানা আড়াই দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নানা কারণে এখন কিছুটা চাপে। এই পরিস্থিতিতে দলটি আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির…

ইরান ছাড়তে জীবন বাজি রেখেছিলেন দুই ফুটবলার

ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো যে তাঁদের জন্য কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা জানতেন ফুটবলার আতেফেহ রামেজানিসাদেহ ও ফাতেমেহ পাসানদিদেহ। কারাবাস, পরিবারের…

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ৩ কারাবন্দীর মৃত্যু, দুইজনের মাঝে ব্যবধান ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার পৃথক সময়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে দুজন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au