বাংলাদেশ

হাদির হত্যার জন্য দায়ী ইউনূস সরকারের শাসনব্যবস্থা- এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

  • 4:58 pm - January 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯ বার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও এর সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান আইনশৃঙ্খলার ভাঙন ও নির্বাচনী সহিংসতা।

হাসিনা বলেন,
“শরীফ ওসমান হাদির হত্যা ছিল একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা, যা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে চলমান বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার সরাসরি ফল।”

তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এটিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের উদ্দেশ্য নিজেদের চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া, সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা এবং সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করা।

ভারতের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে ঢাকার কিছু মহলের অভিযোগকে “ইচ্ছাকৃত ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের পেছনে রয়েছে মৌলবাদী শক্তি, যারা ইউনূস সরকারের ব্যর্থতাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

তিনি আরও বলেন,
“ভারতের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র টানার চেষ্টা একটি সাজানো বয়ান, যা জনমতকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু দশকের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

হাসিনা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করেছে।
“এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর,” তিনি বলেন।

হাদির হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা

শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান।

তার মৃত্যুর পর ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর কার্যালয় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। একই সময়ে ময়মনসিংহে এক হিন্দু কারখানা শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এত বড় সহিংসতার পরও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা বা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

সূত্র: ndtv.com/world-news

এই শাখার আরও খবর

চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…

‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au