মিয়ানমারে ভোট ঘিরে ছয় মাসে ৭০০ নাগরিক নিহত: জাতিসংঘ
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- মিয়ানমারে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের মোট ৬৬টি সংস্থা থেকে সরে যাচ্ছে। এসব সংস্থার মধ্যে জাতিসংঘের অন্তত ১৭টি অঙ্গ সংস্থাও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অকার্যকর, অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত এবং এতে যুক্ত থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর ও অর্থের অপচয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়েও পর্যালোচনা চলমান রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন, অভিবাসন উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহযোগিতাবিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে জাতিসংঘের নাম সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সংস্থার সংখ্যা ১৭টি।
জাতিসংঘের যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল, ইউএন অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস, ইউএন কলাবোরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডিউসিং এমিশনস ফ্রম ডিফরেস্টেশন অ্যান্ড ফরেস্ট ডিগ্রেডেশন ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিস, ইউএন কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএন ডেমোক্রেসি ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম, ইউএন ওশেনস, ইউএন পপুলেশন ফান্ড এবং ইউএন ওয়াটার।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতায় ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রে এমন পক্ষের প্রভাব স্পষ্ট, যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয়। এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য হুমকি তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, এসব সংস্থার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় আর গ্রহণযোগ্য নয়। বিনিময়ে কার্যত কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছে প্রশাসন।
এই সিদ্ধান্তের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সও রয়েছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে দেশীয় অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সৌর শক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে করা ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au