মিয়ানমারে ভোট ঘিরে ছয় মাসে ৭০০ নাগরিক নিহত: জাতিসংঘ
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- মিয়ানমারে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক বছর ভেনেজুয়েলার তত্ত্বাবধান চালাতে পারে এবং দেশটির তেল আয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে কত দিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র কত দিন ভেনেজুয়েলার তত্ত্বাবধান করবে, তা সময়ই বলবে।” পত্রিকার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে এটি তিন মাস, ছয় মাস নাকি এক বছরের বেশি সময় হতে পারে কি না, ট্রাম্প জবাবে বলেন, “আমি বলব, অনেক বেশি সময়।”
ভেনেজুয়েলার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে “খুব লাভজনকভাবে” পুনর্গঠন করতে চায় এবং দেশটির বিপুল তেল সম্পদ এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা তেল ব্যবহার করব এবং আমরা তেল নেব। আমরা তেলের দাম কমিয়ে আনছি এবং ভেনেজুয়েলাকে অর্থ দিচ্ছি, যা তাদের ভীষণভাবে প্রয়োজন।” তাঁর ভাষায়, এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যেমন লাভবান হবে, তেমনি ভেনেজুয়েলাও আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ৩ জানুয়ারি রাতে পরিচালিত এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। এরপর দেশটিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি দীর্ঘদিন মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করছি।” তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব বিষয়েই সহযোগিতা করছে।
তবে ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা কেন বিরোধীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি, যাদের ২০২৪ সালের নির্বাচনের বৈধ বিজয়ী হিসেবে আগে ওয়াশিংটন বিবেচনা করেছিল-এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার আটকে থাকা সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিশোধন ও বিক্রির একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের কারণে এই তেল দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল।
আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গেও সাক্ষাৎকারে কথা বলেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগের হুমকি তিনি কার্যত প্রত্যাহার করেন। এমনকি কলম্বিয়ার বামপন্থী নেতাকে, যাকে তিনি একসময় “অসুস্থ মানুষ” বলে মন্তব্য করেছিলেন, ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন কি না-এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জবাব এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিয়মিতভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
“আমি আপনাকে বলতে পারি, আমরা তার এবং প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছি,” বলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি এবং তেলনির্ভর অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au