প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি- প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে নোটিশে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া কয়েকজন পরীক্ষার্থীর পক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এই আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে তা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া বলেন, আগামীকালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় পরীক্ষা আয়োজন করা হলে তা অনিয়মকে বৈধতা দেবে। তাই পরীক্ষা বাতিল করে পরবর্তী কোনো সুবিধাজনক তারিখে নতুন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই দাবির প্রতি সাড়া না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপে গত ৫ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে গত ১২ নভেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের স্কুলগুলোর ৪ হাজার ১৬৬টি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
প্রাথমিকভাবে এই নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত ছিল ২ জানুয়ারি। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। পরে পরীক্ষার সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়। প্রথমে সকালে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর তা পরিবর্তন করে বিকেলে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এই অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু উপায়ে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।