দক্ষিণ এশিয়ায় জালিয়াতি বাড়ায় বাংলাদেশসহ চারটি দেশের ঝুঁকি স্তর বাড়াল অস্ট্রেলিয়া সরকার।
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ এডুকেশন দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত কান্ট্রি এসেসমেন্ট লেভেলস হালনাগাদ করেছে। ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি PRISMS (Provider Registration and International Student Management System) এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেল পরিবর্তন করা হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ এডুকেশন জানায়,
“এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হচ্ছে জালিয়াতি ও অনিয়ম মোকাবিলা করা এবং একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখা।”
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নতুন ঝুঁকি স্তর
অনানুষ্ঠানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী নিচের পরিবর্তনগুলো কার্যকর হয়েছে:
| দেশ |
আগের স্তর |
নতুন স্তর |
| বাংলাদেশ |
AL 1 |
AL 3 |
| ভুটান |
AL 2 |
AL 3 |
| ভারত |
AL 2 |
AL 3 |
| নেপাল |
AL 2 |
AL 3 |
| শ্রীলঙ্কা |
AL 1 |
AL 2 |
সর্বশেষ এই মূল্যায়ন পরিবর্তন করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।
কেন এই পরিবর্তন এসেছে
দক্ষিণ এশিয়া সফরের পর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, ওই অঞ্চলে আর্থিক ও একাডেমিক কাগজপত্র জালিয়াতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তার মতে,“কঠোর ডকুমেন্টারি প্রমাণ ছাড়া প্রকৃত শিক্ষার্থী এবং ভুয়া আবেদনকারীদের আলাদা করা সম্ভব নয়।”
এই ঝুঁকি স্তর খুব ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি এজেন্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া নতুন বছরের শিক্ষার্থী ভর্তি শুরুর সময়েই এমন পরিবর্তন বার্তা দিচ্ছে যে, অস্ট্রেলিয়া ঠিক কোন দেশগুলো থেকে শিক্ষার্থী নিতে চায়, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দুটি প্রধান ধরনের জালিয়াতি শনাক্ত
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে মূলত দুই ধরনের জালিয়াতি চিহ্নিত করছে:
১. ভুয়া আর্থিক নথি, যা দেখতে আসল
কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের ভেতরের সহযোগিতায় তৈরি কাগজপত্র যাচাই পরীক্ষায় পাস করে যায়, অথচ সেগুলো শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন নয়।
২. ‘সার্চ ফান্ড’ জালিয়াতি
শিক্ষার্থীরা এজেন্টের মাধ্যমে একই পরিবারের নাম ব্যবহার করে অন্য মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অর্থ দেখায়। অর্থ আসল হলেও সেটি আবেদনকারীর পরিবারের নয়, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।
দক্ষিণ এশিয়ার বড় নিয়োগকারী সংস্থা Global Reach-এর সিইও রবি লোচন সিংহ বলেন, বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে, কারণ তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক সাব-এজেন্ট ও তথাকথিত ‘প্যাকেজ এজেন্ট’দের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করছে। এসব এজেন্ট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া চালায় এবং কৌশলে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানে তাদের পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থাই বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার সংকটে পড়ছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ ও নেপালের শিক্ষার্থীদের ভিসা সাফল্যের হার খুবই ভালো ছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কেউ কেউ আশ্রয় বা অন্য ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করে থাকতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
শিক্ষার্থী আবেদনকারীদের জন্য এর অর্থ কী
এখন Level 3 দেশগুলোর (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান) শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষার প্রমাণের ওপর আগের চেয়ে অনেক কঠোর ভাবে যাচাই করা হবে। যেন ভুয়া শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে না পারে।
যেকোনো অস্পষ্ট তহবিল, ধার করা অর্থ, বা দুর্বল কাগজপত্রের কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় দেরি বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান হতে পারে। তাই এখন স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও সত্যতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে Level 1 ও Level 2 দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রকৃত ও যাচাইযোগ্য নথি অপরিহার্য। স্পষ্ট হয়ে গেছে যে অস্ট্রেলিয়া এখন কেবল সেই আবেদনগুলোই গ্রহণ করবে, যেগুলোর উদ্দেশ্য পরিষ্কার এবং কাগজপত্র সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য।
