মেলবোর্ন, ১০ জানুয়ারি- মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত চূড়ান্ত করতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তিটি সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার।
কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর আলোচনায় নতুন গতি আসে। চুক্তির বিভিন্ন শর্তে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বিষয়টি তুলনামূলকভাবে জটিল হওয়ায় সময় লাগলেও দ্রুততম সময়ে আলোচনা শেষ করে চুক্তি কার্যকরের লক্ষ্য রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এখন বাংলাদেশ। বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাম অয়েল ও রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি হয় এবং বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, জুতা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হচ্ছে।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে কেবল শ্রমিক রফতানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন খাতে বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ খাতে সম্পর্ক সন্তোষজনক হলেও বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী আরো জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষকরাও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার থাকবে। দীর্ঘ ৫৪ বছরের বন্ধুত্ব আগামী দিনে আরো বহুমুখী ও অর্থবহ রূপ নেবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।