চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি: অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক পরিসরে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশটির সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপালের মতো দেশও। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ওয়াশিংটন ভিসা বন্ডের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল।
নতুন নীতিমালার আওতায় মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো আরও কঠোর মানদণ্ডে আবেদন যাচাই করবে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা বা চিকিৎসা সহায়তার মতো সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা থাকলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার সম্ভাব্য অভিবাসী। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ পদক্ষেপকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন রাজনীতিকও এটিকে “সমষ্টিগত শাস্তি” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির তৃণমূল সংগঠক বাংলাদেশি–আমেরিকান আইনজীবী মঈন চৌধুরী ট্রাম্প প্রশাসনের এই নির্দেশনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন,
“যাদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে দিয়েছে, তাদের স্বপ্ন আজ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এটি এক অমানবিক পদক্ষেপ।”
তিনি আরও জানান, অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো আদালতে এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়ার পর সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়।
“এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিজস্ব নীতি। আমরা এখন মূল্যায়ন করব—বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং আমাদের কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
তাঁর মতে, উচ্চ অভিবাসন প্রবণতা, আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা এবং সামাজিক সেবার ওপর নির্ভরশীলতার হার বেশি—এমন দেশগুলোই মূলত এই নীতির লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত শুধু অভিবাসন প্রত্যাশীদের নয়, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au