মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে জরুরি ভিত্তিতে চার মহাকাশচারীর পৃথিবীতে ফিরে আসার ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল- মহাকাশ অভিযানে এক মুহূর্তের অসতর্কতা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসাজনিত এক জরুরি পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই আইএসএস ত্যাগ করতে বাধ্য হন ‘ক্রু-১১’ দলের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও রাশিয়ার চার মহাকাশচারী।
স্টেশনে থাকা অবস্থায় একজন সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা আইএসএস-এর সীমিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো দলকে একসঙ্গে স্পেসএক্স নির্মিত ক্যাপসুলে করে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে- পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথেও মহাকাশ ভ্রমণ কখনোই ‘রুটিন’ হতে পারে না। আগুন, অক্সিজেন লিক, বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়া বা মহাকাশ আবর্জনার আঘাত- সব ধরনের বিপদের জন্যই মহাকাশচারীদের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
যুক্তরাজ্য স্পেস এজেন্সির সিনিয়র এক্সপ্লোরেশন ম্যানেজার মেগান ক্রিশ্চিয়ান জানান, প্রশিক্ষণের সময় মহাকাশচারীদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয়, যেখানে একসঙ্গে একাধিক বিপদ মোকাবিলা করতে হয়। লক্ষ্য একটাই- চরম চাপের মধ্যেও শান্ত থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা তৈরি করা।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আইএসএসে সবসময় একটি ‘ফেরি ক্যাপসুল’ প্রস্তুত থাকে, যেন জরুরি মুহূর্তে মহাকাশচারীরা দ্রুত পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন। তবে একজন সদস্য অসুস্থ হলেও পুরো দলকে একসঙ্গে ফিরতে হয়- যা স্টেশনের কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে এই সুবিধা আর থাকবে না। মঙ্গল গ্রহে কোনো বিপদ ঘটলে উদ্ধার পেতে দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, বিকল্প উদ্ধার যান ও নতুন নিরাপত্তা কৌশল এখন সময়ের দাবি।
আগামী দিনে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির মতো উচ্চঝুঁকির মানব অভিযান বাড়তে থাকায়, আইএসএসের এই ঘটনা মহাকাশ নিরাপত্তা ও মানব অভিযানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিজ্ঞানীদের।