মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- নির্বাচনের আগে রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরাণীগঞ্জ ও শরিয়তপুরের জাজিরায় ঘটে যাওয়া দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একদিকে কেরাণীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে, অন্যদিকে জাজিরায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণকে ঘিরে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বাস্তবতা। দুটি ঘটনা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ঘটলেও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এগুলো কতটা ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার হওয়ায় মাদ্রাসায় ক্লাস বন্ধ ছিল, ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের দুটি কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজের টিনশেড ভেঙে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে দেয়ালের অংশ ও ইট প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে, এমনকি পাশের চারতলা ভবনের ছাদেও ধ্বংসাবশেষ ছিটকে যায়।
ঘটনার ১৭ দিন পরও এলাকাটি ক্রাইম সিন হিসেবে ঘিরে রাখা ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার কয়েক দিন পর সেখানে আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং একজন আহত হন। পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তিনজন নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান অভিযুক্ত এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশের উদ্ধার তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান। এর মধ্যে ২০০ লিটার হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, ৬০ লিটার নাইট্রিক অ্যাসিড, ১০ কেজি গুঁড়া জাতীয় পদার্থ এবং নয়টি তাজা ককটেল রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে এসব বোমা ব্যবহার করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। মামলার এজাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমজেবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, কেরাণীগঞ্জের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক জঙ্গিবাদ মামলার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বা কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এতে তারা আবার দাওয়াতি কার্যক্রম ও সংগঠনের প্রস্তুতি নিতে পারছে। তাঁর আশঙ্কা, দেশীয় গোষ্ঠীর পাশাপাশি বিদেশি উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ থাকতে পারে।
কেরাণীগঞ্জের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটকে। এটিইউ বলছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, ৮ জানুয়ারি শরিয়তপুরের জাজিরায় একটি বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। ঘটনার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়ি ও ঝোপঝাড় থেকে ৪৫টি তাজা ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলে আসছে।
স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, বিলাসপুরে আধিপত্যের লড়াই শত বছরের পুরোনো। সময়ের সঙ্গে অস্ত্রের ধরন বদলেছে, কিন্তু সংঘাতের সংস্কৃতি রয়ে গেছে। এলাকাবাসীর কেউ কেউ বলেন, এখানে ককটেল তৈরি অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং অর্থ উপার্জনের জন্যও অনেকে এতে জড়িয়ে পড়েছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ককটেল বানানো সম্ভব বলে জানান এক ব্যক্তি, যিনি আগে এই কাজে যুক্ত ছিলেন।
জাজিরায় তৈরি ককটেল অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে ককটেলসহ আটক ব্যক্তির বাড়ি এই এলাকাতেই বলে জানা গেছে। তবে জেলা পুলিশের দাবি, জাজিরার ঘটনাগুলোর সঙ্গে উগ্রবাদ বা নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো পরিকল্পনার যোগ নেই। পুলিশের মতে, এটি স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকেরা। নূর খান লিটনের মতে, বর্তমান ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উগ্রবাদী, আধিপত্য বিস্তারকারী গোষ্ঠী কিংবা অন্যান্য অপরাধী চক্র সবাই সুযোগ নিতে পারে। নির্বাচনের আগে সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা, সমন্বিত নজরদারি এবং স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, না হলে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো যে কোনো সময় বড় ধরনের অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au