উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি- উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি সপ্তমবারের মতো দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটির নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ৭১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন ৮১ বছর বয়সী এই নেতা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ববি ওয়াইন। তার প্রকৃত নাম রবার্ট কিয়াগুলানি সেন্টামু। তিনি পেয়েছেন ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট।
চার দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা একই সরকারের পরিবর্তনের দাবি তুলে নির্বাচনে নেমেছিলেন ৪৩ বছর বয়সী ববি ওয়াইন। তবে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ববি ওয়াইনের অভিযোগ, এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তার ভাষায়, ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, ব্যাপক সামরিক মোতায়েন এবং তার দলের ভোটকেন্দ্রের প্রতিনিধিদের অপহরণের মতো ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের দিন রাজধানী কাম্পালাসহ বেশ কয়েকটি শহরে বায়োমেট্রিক ভোটার শনাক্তকরণ যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে। এতে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেরি হয়, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় সমর্থন শক্তিশালী এমন এলাকাগুলোতে। পরে নির্বাচন কর্মকর্তারা কাগজে সংরক্ষিত ভোটার তালিকা ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ চালান। দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি ঠেকাতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতির দাবি জানিয়ে আসা গণতন্ত্রপন্থীদের জন্য এটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই যন্ত্র বিকলের বিষয়টি ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের ভিত্তি হতে পারে।
এর আগে শনিবার কাম্পালায় পুলিশ ববি ওয়াইনকে গ্রেপ্তারের খবর অস্বীকার করে। পুলিশ এসব খবরকে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। পুলিশের মুখপাত্র কিতুমা রুসোক বলেন, ববি ওয়াইন গৃহবন্দি নন এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তবে তার বাড়িতে যাতায়াত সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে সেখানে জড়ো হয়ে কেউ সহিংসতা উসকে দিতে না পারে।
এই সপ্তাহের বৃহস্পতিবার উগান্ডায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের আগেই চার দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয় এবং সর্বত্র সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের ফল ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটে।
ভোটের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি ছিল বলে অভিযোগ করেন ববি ওয়াইন। তিনি বলেন, পুরো প্রচারণা জুড়ে তাকে অনুসরণ করা হয়েছে, তার সমর্থকদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় তিনি হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে প্রচারণা চালান।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ববি ওয়াইন দাবি করেন, তিনি তার বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। পরদিন তার দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম জানায়, তাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে।
উগান্ডা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও দেশটিতে এখনো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের নজির নেই। এদিকে, দেশটির প্রবীণ বিরোধী নেতা কিজা বেসিগিয়ে, যিনি চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তিনি এখনো কারাগারে আছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, সপ্তম মেয়াদে মুসেভেনির বিজয়ের মধ্য দিয়ে উগান্ডার রাজনীতিতে ধারাবাহিকতার পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা