মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হালুয়াঘাট আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। একই প্রতিষ্ঠানে তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের একের পর এক নিয়োগ দিয়ে কার্যত একটি পরিবারতন্ত্র গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক সহকারী শিক্ষক। পাশাপাশি ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা, পাঠদানে নিষেধাজ্ঞা এবং এমপিওভুক্তিতে ইচ্ছাকৃত জটিলতা তৈরির মাধ্যমে মানবেতর জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
রোববার দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিজের স্ত্রী, শ্যালিকা, ভাই, ভাতিজাসহ নিকটাত্মীয়দের নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী জান্নাতুন ফেরদৌসী বিউটি, আয়া পদে শ্যালিকা লাভলী, নৈশপ্রহরী পদে ভাই আলমগীর কবির এবং নিরাপত্তাকর্মীর পদে ভাতিজা রাকিব।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের বন্ধু ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ফিরোজ কবির প্রিন্সের পরিবারের তিনজনকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী শিক্ষিকা আজমিরী কামাল, একই পদে তাঁর শ্যালিকা ইফফাত আরা কামাল এবং অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে ভাগিনা শহিদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাবেক সভাপতির স্বজনদের ২০০৪ সালের পূর্ববর্তী তারিখ দেখিয়ে ব্যাক ডেটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই কৌশলে শামসুজ্জামান ও মোফাখখারুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনকে নিয়োগ দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেবের দাবি, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক তাঁকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দিচ্ছেন না এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে বাধা দিচ্ছেন। ব্যানবেইসে তথ্য হালনাগাদ না করা এবং এমপিও আবেদনে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের মাধ্যমে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রধান শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিলেও কোনো কাজ করেননি। টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে কর্মরত সবাই নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সনদপত্র রয়েছে। আব্দুল মোত্তালেবের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়েছে; তবে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে এমপিও সুবিধা না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেব। তিনি শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বিদ্যালয়ে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তাঁর কর্মস্থলে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া জরুরি।
চাইলে এই প্রতিবেদনের আরও সংক্ষিপ্ত বা আরও অনুসন্ধানী সংস্করণও তৈরি করে দিতে পারি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au