চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের ডাউনটাউন শার-ই-নাও এলাকায় একটি হোটেলের ভেতরে অবস্থিত রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক চীনা নাগরিক ও ছয়জন আফগান রয়েছেন। এক শিশুসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের অন্যতম কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত ও নিরাপদ বলে পরিচিত এলাকায়, যা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে শার-ই-নাও এলাকার বাণিজ্যিক অঞ্চলে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকাটিতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, অফিস ভবন, শপিং কমপ্লেক্স ও অভিজাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান জানান, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত রেস্তোরাঁটি ছিল একটি চীনা নুডলস রেস্তোরাঁ, যা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন চীনা মুসলিম আবদুল মজিদ, তাঁর স্ত্রী এবং আফগান অংশীদার আবদুল জব্বার মাহমুদ। রেস্তোরাঁটি মূলত কাবুলে বসবাসকারী চীনা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল।
জাদরান বলেন, রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের কাছাকাছি স্থানে বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে আয়ুব নামে এক চীনা নাগরিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন আফগান নিহত হন। আহত হয়েছেন এক শিশুসহ কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর সামনের অংশে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। চারদিকে কাচ, ধ্বংসাবশেষ ও আসবাবপত্র ছড়িয়ে রয়েছে। ভবনটির ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং আশপাশের সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ইতালীয় এনজিও ‘ইমার্জেন্সি’ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর তাদের কাবুলের সার্জিক্যাল সেন্টারে ২০ জনকে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। সংস্থাটি জানায়, হতাহতের সংখ্যা এখনো প্রাথমিক এবং আহতদের মধ্যে চারজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
পরে আফগানিস্তানে সক্রিয় আইএসআইএলের একটি শাখা এই হামলার দায় স্বীকার করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এটি একটি আত্মঘাতী হামলা। আইএসআইএলের বার্তা সংস্থা আমাক দাবি করেছে, চীনা নাগরিকদের তারা তাদের লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিবৃতিতে চীনের উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে কথিত নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে এই হামলার যুক্তি দেখানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিমদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। তবে চীন সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার পর তালেবান ক্ষমতায় ফেরে। এরপর কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, আইএসআইএলের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং তারা সুযোগ পেলেই প্রাণঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au