বিশ্ব

গাজায় ছড়িয়েছে বিপজ্জনক ভাইরাস, ঘটছে প্রাণহানি

  • 1:09 am - January 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০৬ বার
দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের একটি হাসপাতালে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ধরা পড়া এক ফিলিস্তিনি ছেলে। ছবি: রয়টার্স

মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- গাজা উপত্যকাজুড়ে একটি বিপজ্জনক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

গাজা সিটির আল শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা পরিচালক মোহাম্মেদ আবু সালমিয়া আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভাইরাসটির কারণে মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালগুলোতে নথিভুক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীরা।

আবু সালমিয়া বলেন, গাজা এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি। পরিস্থিতি এমন গতিতে অবনতি হচ্ছে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটি সম্ভবত ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাসের কোনো একটি রূপ, যা সব বয়সী মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের মানসিক আঘাত এবং টিকাদান কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র জয়েন্ট ও হাড়ের ব্যথা, লাগাতার মাথাব্যথা এবং বমি। অনেক ক্ষেত্রেই এই অসুস্থতা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে তাঁবুতে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানান আবু সালমিয়া। ঠান্ডা, আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতির পর ১০০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ধস আরও গভীর হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রীরও মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্ত গজ নেই, অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ প্রায় শেষ, ক্যানসারের ওষুধ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাও কার্যত বন্ধ।

এর পাশাপাশি গাজায় একটি গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে, যা শুধু রোগীদের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

আবু সালমিয়া জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের অভাবে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার আর কার্যকর নেই। ফলে চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও করতে পারছেন না, যা এই ভাইরাস মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

 

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

 

এই শাখার আরও খবর

মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে ছয় মাস ধরে বলাৎকার করছিলেন ৬জন

সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ…

বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকায় উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানী ঢাকাসহ…

আরজি করের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ-হত্যা: সাবেক পৌর চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও তৃণমূল…

ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তারেকের সফর নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশের হয়ে অন্য কোনো প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন…

বিএনপি নেতাদের অভিনন্দন জানালেন ৩ উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au