মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- গাজা উপত্যকাজুড়ে একটি বিপজ্জনক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
গাজা সিটির আল শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা পরিচালক মোহাম্মেদ আবু সালমিয়া আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভাইরাসটির কারণে মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালগুলোতে নথিভুক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীরা।
আবু সালমিয়া বলেন, গাজা এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি। পরিস্থিতি এমন গতিতে অবনতি হচ্ছে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটি সম্ভবত ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাসের কোনো একটি রূপ, যা সব বয়সী মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের মানসিক আঘাত এবং টিকাদান কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র জয়েন্ট ও হাড়ের ব্যথা, লাগাতার মাথাব্যথা এবং বমি। অনেক ক্ষেত্রেই এই অসুস্থতা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে তাঁবুতে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানান আবু সালমিয়া। ঠান্ডা, আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতির পর ১০০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ধস আরও গভীর হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রীরও মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্ত গজ নেই, অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ প্রায় শেষ, ক্যানসারের ওষুধ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাও কার্যত বন্ধ।
এর পাশাপাশি গাজায় একটি গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে, যা শুধু রোগীদের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
আবু সালমিয়া জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের অভাবে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার আর কার্যকর নেই। ফলে চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও করতে পারছেন না, যা এই ভাইরাস মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au