বিশ্ব

গাজায় ছড়িয়েছে বিপজ্জনক ভাইরাস, ঘটছে প্রাণহানি

  • 1:09 am - January 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৫২ বার
দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের একটি হাসপাতালে গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ধরা পড়া এক ফিলিস্তিনি ছেলে। ছবি: রয়টার্স

মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- গাজা উপত্যকাজুড়ে একটি বিপজ্জনক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

গাজা সিটির আল শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা পরিচালক মোহাম্মেদ আবু সালমিয়া আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভাইরাসটির কারণে মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালগুলোতে নথিভুক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীরা।

আবু সালমিয়া বলেন, গাজা এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি। পরিস্থিতি এমন গতিতে অবনতি হচ্ছে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটি সম্ভবত ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাসের কোনো একটি রূপ, যা সব বয়সী মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের মানসিক আঘাত এবং টিকাদান কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত তীব্র উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র জয়েন্ট ও হাড়ের ব্যথা, লাগাতার মাথাব্যথা এবং বমি। অনেক ক্ষেত্রেই এই অসুস্থতা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে তাঁবুতে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে জানান আবু সালমিয়া। ঠান্ডা, আর্দ্রতা ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতির পর ১০০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ধস আরও গভীর হয়েছে।

হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রীরও মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি। অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্ত গজ নেই, অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ প্রায় শেষ, ক্যানসারের ওষুধ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাও কার্যত বন্ধ।

এর পাশাপাশি গাজায় একটি গভীর মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে, যা শুধু রোগীদের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

আবু সালমিয়া জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের অভাবে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার আর কার্যকর নেই। ফলে চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও করতে পারছেন না, যা এই ভাইরাস মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

 

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

 

এই শাখার আরও খবর

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au