ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ২৩ জানুয়ারি- দোষারোপ বা সরাসরি সমালোচনা করতে চান না বলেই বক্তব্যের শুরু করেছিলেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা। কিন্তু বক্তৃতার ভেতরেই উঠে এসেছে ইঙ্গিতপূর্ণ অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও রাজনৈতিক বার্তা। এভাবেই শুরু হলো বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল একটি রাজনৈতিক শক্তির দিকে। তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশে-বিদেশে নারীদের এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর ভাষায়, গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আর এখন নতুন করে আরেকটি দল একই ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল মানুষের হাতে ‘এই দেব, ওই দেব’ ধরনের প্রতিশ্রুতি তুলে দিচ্ছে। তাঁর মতে, যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটি দেওয়ার কথা বলা মানে ধর্মীয় দৃষ্টিতে ভুল পথে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ, আর নির্বাচনের আগেই যারা এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তারা জনগণকে আগেই ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের পরে সেই ঠকানোর মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এর মাত্র তিন দিন আগেই একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন, দোষারোপের রাজনীতি দিয়ে মানুষের পেট ভরবে না। তিনি তখন জোর দিয়েছিলেন মানুষের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতির ওপর। সেই বক্তব্যের সঙ্গে আজকের ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনার বৈপরীত্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান জনসভায় বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, তিনি কারও সমালোচনা করতে চান না। কিন্তু এরপরই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে তীব্র রাজনৈতিক ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ যদি নতুন কোনো পোশাক পরে সামনে আসে, তবে তার পরিণতিও অতীতে দেখা পরিণতির মতোই হবে। বিগত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন রাখেন, জনগণ কি আবার নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, তারা নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না।
শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থেকে যারা নিজেদের কর্মীদের বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে একটি ভালো বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পরিবার ও কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, খয়রাতি অনুদান নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে যুবসমাজকে সম্মানের সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে যুক্ত করাই জামায়াতের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় ঢাকা-১৫ আসনভিত্তিক এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমীর। এই জনসভার মধ্য দিয়েই ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের বিজয় কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখল নয়, বরং এটি হবে সাধারণ মানুষের বিজয়। তাঁর অভিযোগ, গত দেড় দশকে দেশে ন্যায়বিচার না থাকায় দুর্নীতিবাজরা ব্যাংক লুট করে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করার সাহস পেয়েছে। দেশে ন্যায়বিচার থাকলে এই লুণ্ঠনকারীরা পালানোর সুযোগ পেত না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের ব্যাংক খাত ও শেয়ারবাজারের বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দেন, যারা কোটি কোটি মানুষের টাকা লুট করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করা হবে। ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ন্যায়বিচারকে আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, আজ একজন হাদী নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষ হাদীর চেতনায় উদ্বুদ্ধ। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আধিপত্যবাদমুক্ত ও স্বাধীন।
ঢাকা-১৫ আসনের স্থানীয় সমস্যার কথাও তুলে ধরেন জামায়াতের আমীর। তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করলেও মানসম্মত সরকারি হাসপাতাল বা কলেজ নেই। গ্যাস সংকট ও নোংরা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় মানুষ অতিষ্ঠ। নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
নারী অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ গড়া হবে। কর্মক্ষেত্রে ও চলাফেরায় নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং নারীদের সম্মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে জোট প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান।
এর পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানান, তারেক রহমানের কাছে সরাসরি মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ জানানোর জন্য পাঁচটি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কিউআর কোড স্ক্যান করে মতামত পাঠানো, ‘লেটার টু তারেক রহমান’ নামে চিঠি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, একটি ওয়েব অ্যাপের মাধ্যমে নীতিমালা নিয়ে মতামত, তরুণদের সঙ্গে সরাসরি নীতিনির্ধারণী আলোচনা এবং বিএনপির বিভিন্ন খাতভিত্তিক ভিশন তুলে ধরা লিফলেট।
ড. মাহদী আমিন বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের চিন্তাভাবনা সরাসরি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সেই মতামতের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au