নারী কোচ নিয়োগ দিয়ে জার্মান পুরুষ ক্লাবের ইতিহাস
মেলবোর্ন, ১২ এপ্রিল- জার্মানির শীর্ষ ফুটবল লিগ বুন্দেসলিগার পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন ম্যারি-লুইস এতা। দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে কোচ…
মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি- উগান্ডায় বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর দেশজুড়ে বিরোধী দল দমনে কঠোর অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। সামরিক বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তত দুই হাজার বিরোধী সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আরও অনেককে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে এ তথ্য জানান সামরিক বাহিনীর প্রধান মুুহোজি কাইনেরুগাবা। তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির ছেলে। কাইনেরুগাবা বলেন, ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম বা এনইউপি দলের সমর্থকদের তারা ‘দুষ্কৃতকারী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, এ পর্যন্ত ৩০ জন এনইউপি ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করা হয়েছে, তবে এসব মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। আরেক পোস্টে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অনেক নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং সবাইকে ধরতে অভিযান চলবে।
১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৮১ বছর বয়সী ইয়োয়েরি মুসেভেনিকে সপ্তম মেয়াদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রায় চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা মুসেভেনিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করার দাবি করা হয় বিরোধী নেতা ববি ওয়াইনকে। ভোটের দিন দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচনা হয়েছে।
বিরোধী দল এনইউপির নেতা ববি ওয়াইন, যিনি সাবেক সংগীতশিল্পী এবং যার আইনগত নাম রবার্ট কিয়াগুলানিই, নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ব্যালট বাক্স ভরারসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
সরকার নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী সহিংসতার জন্য ওয়াইনের সমর্থকদের দায়ী করলেও বিরোধী পক্ষ বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ওয়াইনের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার শত শত সমর্থককে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য ভীতি সৃষ্টি করে বিরোধী আন্দোলন দমন করা।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও গ্রেপ্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিরোধী নেতা ও সমর্থকদের গ্রেপ্তার এবং সহিংস ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মুখপাত্র স্টেফান দ্যুজারিক জানান, মহাসচিব সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতা পালনের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
উগান্ডায় চলমান এই পরিস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন কাম্পালার দিকে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au