‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সেনাদের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রিন্স হ্যারি ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো ও কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও উত্তেজনা বেড়েছে।
প্রিন্স হ্যারি এক বিবৃতিতে বলেন, আফগানিস্তানে নিহত ব্রিটিশ সেনাদের আত্মত্যাগ যথাযথ সম্মান ও সত্যের সঙ্গে তুলে ধরা উচিত। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে পরোক্ষভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যেসব সেনা জীবন দিয়েছেন, তাদের অবদানকে বিকৃত করা অনুচিত।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অপমানজনক ও ভয়াবহ” বলে আখ্যা দেন এবং এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ন্যাটো বাহিনীর ইউরোপীয় সেনারা আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় মূল ফ্রন্টলাইনের বাইরে অবস্থান করেছিল। স্টারমার বলেন, এই বক্তব্য শুধু ভুল নয়, বরং মিত্রদের আত্মত্যাগকে খাটো করার শামিল।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে ৪৫০ জনের বেশি ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এছাড়া কানাডার ১৫৯ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন এবং ডেনমার্কের ৪৩ জন সেনা প্রাণ হারান।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপীয় নেতারাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কি বলেন, কোনো দেশের সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে উপহাস করার অধিকার কারও নেই। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিরল ঐক্য দেখা গেছে; এমনকি ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে কানাডার সঙ্গে সম্পর্কেও উত্তেজনা বাড়িয়েছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে তাঁর তথাকথিত “বোর্ড অব পিস”-এ আমন্ত্রণ জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণে কানাডা রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বশীল—যা কানাডা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের দিকে একটি “নৌবহর” অগ্রসর হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এসব ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং ন্যাটো জোট ও পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিশ্বাসের ভিত্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিতর্ক কত দূর গড়ায়, তা এখন বিশ্ববাসীর নজরে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au