চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৫ জানুয়ারি- সরকারের আইন বহির্ভূত গ্রেপ্তার ও দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার। কারাবন্দি অবস্থায় স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশুপুত্রের মরদেহ প্রথমবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় কারা ফটকে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দৃশ্য, যেখানে নিজের জীবনে প্রথমবারের মতো মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় সাদ্দামকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও শিশুপুত্রের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকার পর স্ত্রীর নিথর দেহ স্পর্শ করেন তিনি এবং কোলে তুলে নেন নিজের মৃত সন্তানকে। এ সময় উপস্থিত কারারক্ষী, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই আবেগ সামলাতে পারেননি।
এর আগে শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর মুক্তি না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন স্বর্ণালী। চরম হতাশা ও অসহায়ত্ব থেকে তিনি প্রথমে ৯ মাসের শিশুপুত্রকে পানির বালতিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকলেও তার বিরুদ্ধে আনা মামলায় প্যারোলে মুক্তির সুযোগ হয়নি। সরকারের আইন বহির্ভূত গ্রেপ্তার ও দীর্ঘসূত্রতায় বিচার প্রক্রিয়া চলার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, স্বামীর মুক্তির কোনো বাস্তব সম্ভাবনা না দেখেই স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কারাগার থেকে সাদ্দাম মাঝে মাঝে স্ত্রীকে চিরকুট পাঠিয়ে ধৈর্য ধরতে বলতেন এবং শিগগির মুক্ত হওয়ার আশ্বাস দিতেন। তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন, যা তার স্ত্রীর হতাশা আরও গভীর করে তোলে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, সাদ্দাম গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মানবিক বিবেচনায় তাকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রক্রিয়া শেষে তাকে আবার নির্ধারিত ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় সরকারের আইন বহির্ভূত গ্রেপ্তার, দীর্ঘদিন জামিন না পাওয়া এবং বন্দিদের পরিবারগুলোর মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তারা বলছেন, সময়মতো আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিক সিদ্ধান্ত থাকলে হয়তো এমন একটি পরিবারকে এভাবে ধ্বংস হতে হতো না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au