নরসিংদীতে এবার হিন্দু যুবক চঞ্চলকে পুড়িয়ে 'হত্যা'। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জানুয়ারি- দিপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক নৃশংস ঘটনা দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এবার নরসিংদীতে এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩)। তিনি নরসিংদী পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি গ্যারেজে কাজ করতেন।
চঞ্চল কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। তার মা প্রমিতা রানী ভৌমিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। পরিবারের বড় ভাই প্রতিবন্ধী এবং ছোট ভাই পড়াশোনারত। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন চঞ্চল। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলত পুরো পরিবার।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে গ্যারেজের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় চঞ্চলের ওপর এই হামলা চালানো হয়। গ্যারেজের বাইরে থাকা শাটারে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি গ্যারেজের বাইরে আগুন জ্বালিয়ে দ্রুত সরে যায়। এর পরই ভেতরে থাকা চঞ্চল আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে যান।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভানোর পর গ্যারেজের ভেতর থেকে চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আগুনে পুড়ে তিনি মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। নিহতের পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।
তাদের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে একজন সংখ্যালঘু যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরিবার দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
চঞ্চলের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামে শোকের মাতম চলছে। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
এই ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েছে। কোথাও মন্দির ভাঙচুর, কোথাও বাড়িঘরে আগুন, আবার কোথাও ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে তাদের অভিযোগ।
তারা নরসিংদীর এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
একই সঙ্গে তারা বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে যেন আর কোনো নাগরিককে প্রাণ দিতে না হয়, সে দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
গত দেড়মাসে কমপক্ষে ৩০ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ পরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছে।