জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে উত্তাল ঢাবি, কুশপুত্তলিকা দাহ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ জানুয়ারি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু ও ডাকসু ভবন নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তার বক্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ওই জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার ২৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। ডাকসু সদস্য হেমা চাকমার নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানের বক্তব্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। তারা বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংসদ ও শিক্ষাঙ্গন নিয়ে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর অবস্থান জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে শামীম আহসানের বক্তব্যকে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, সুনাম ও ঐতিহ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে তার প্রতি আহ্বান জানায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অরুচিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে সতর্ক করে প্রশাসন।
ডাকসুর পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ এক বিবৃতিতে বলেন, শামীম আহসানকে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে পরদিন শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে।
এর আগে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা জামায়াত নেতা শামীম আহসান ডাকসু ভবন ও এর কার্যক্রম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ডাকসু নেতাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ছাত্র রাজনীতির প্রতি সরাসরি অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসু কেবল একটি ভবন বা সংগঠন নয়, এটি গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক। সেই জায়গাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে তারা আরও কর্মসূচি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।