ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ২৬ জানুয়ারি- স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের একাধিক দপ্তরের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও প্রশ্ন। পরিবার বলছে, তারা যথাযথভাবে আবেদন করেছিল। আর প্রশাসনের একটি অংশ বলছে, তাদের কাছে কোনো আবেদন পৌঁছায়নি।
গত শুক্রবার বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী এবং তাদের নয় মাস বয়সী সন্তান নাজিফের মৃত্যু হয়। ওই সময় সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো দেখানোর জন্য প্যারোলে মুক্তির উদ্যোগ নেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দিনই সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। ছুটির দিন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসকের বাসভবনে গিয়ে আবেদনটি জমা দেন। আবেদন গ্রহণের একটি কপি তাদের দেওয়া হলেও তাতে রিসিভ স্বাক্ষর ছিল না। পরে জানানো হয়, প্যারোল অনুমোদন হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, তাদের কখনোই বলা হয়নি যে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে আলাদা করে আবেদন করতে হবে।
সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন যদি পরিষ্কারভাবে নির্দেশনা দিত, তাহলে তারা সেদিকেই এগোতেন। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে তারা স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যান। সেখানে মানবিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ কয়েক মিনিটের জন্য কারাফটকে সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়। সেই মুহূর্তে তিনি প্রথমবারের মতো নিজের সন্তানের মুখ দেখেন এবং স্ত্রীর নিথর দেহ ছুঁয়ে বিদায় জানান। উপস্থিত সবার জন্যই সেটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় স্বামীর মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে স্বর্ণালী ভেঙে পড়েছিলেন। তারা ধারণা করছেন, চরম হতাশা থেকেই তিনি সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে স্বর্ণালীর ভাই মো. শুভ বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, যেহেতু বন্দি যশোর কারাগারে ছিলেন, তাই প্যারোলে মুক্তির আবেদন যশোরের জেলা প্রশাসক বা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে করার কথা পরিবারকে জানানো হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যশোর কারাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সহযোগিতা করা হয়।
তবে যশোর জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্যারোলে মুক্তির কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি। তাদের দাবি, পরিবারের মৌখিক অনুরোধের ভিত্তিতেই মানবিক কারণে কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বন্দি যে জেলায় কারাবন্দি থাকে, সেই জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করতে হয়। যশোরে এমন কোনো আবেদন আসেনি। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় স্বল্প সময়ের জন্য দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। যশোর জজ কোর্টের আইনজীবী আমিনুর রহমান হিরু মনে করেন, বন্দির নিকট আত্মীয়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া একটি আইনগত অধিকার। সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন থাকলে তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
সাদ্দামের আইনজীবী তাজিনুর রহমান পলাশ বলেন, বাগেরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যথাযথভাবে আবেদন করা হয়েছিল এবং সেখানে উল্লেখ ছিল যে সাদ্দাম যশোর কারাগারে বন্দি। প্রশাসনের ভেতরের সমন্বয়হীনতার দায় পরিবার কেন বহন করবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে জানাজা শেষে শনিবার গভীর রাতে বাগেরহাটের পারিবারিক কবরস্থানে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তার শিশুসন্তানকে দাফন করা হয়। মা ও সন্তানের পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি স্থানীয় মানুষসহ দেশজুড়ে গভীর বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও সমন্বয়ের ঘাটতিতে একজন বন্দি শেষবারের মতো তার প্রিয়জনদের কাছে যেতে না পারার ঘটনাটি এখন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au