চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দলীয় সদস্য বা রুকন পদও স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু সম্পর্কে শামীম আহসানের দেওয়া বক্তব্যে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর ওই বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা দলটির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার সময়। পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর ইসলামী ছাত্রশিবির এই অবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে এবং একইভাবে জামায়াতে ইসলামী দেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি উৎখাত করতে পারবে। তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় এবং দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিতর্কের পর দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামীম আহসানকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর রুকন পদ স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বলেন, শামীম আহসান যে ভাষা ও ভঙ্গিতে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কোনোভাবেই জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দল এমন বক্তব্য সমর্থন করে না বলেও তিনি জানান।
এদিকে শামীম আহসানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। সোমবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের বাসিন্দা আফরোজ নামে এক ব্যক্তি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাচনী জনসভায় দায়িত্বশীল একজন রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্য আচরণবিধির পরিপন্থী এবং তা সামাজিক বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়াতে পারে।
ডাকসু নিয়ে এই মন্তব্য এবং তার পরবর্তী দলীয় শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও রাজনৈতিক শালীনতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au