আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির প্রভাবে দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছয় মাসে আরও অন্তত ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ী নেতারা।
সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ায় বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। উচ্চ সুদের হার এবং ঋণপ্রাপ্তির কড়াকড়ির কারণে নতুন বিনিয়োগ থমকে আছে বলেও তারা জানান।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, মুদ্রানীতি কঠোর করার ফলেই ইতোমধ্যে ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান যে অবস্থা চলছে, তাতে আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে বলে আমি মনে করি।”
বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে। আগামী নভেম্বরে এ অর্জনের মাধ্যমে একদিকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলবে। তবে অন্যদিকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা কমে আসবে, স্বল্প সুদে বিদেশি ঋণ পাওয়া কঠিন হবে এবং অর্থনীতিকে মোকাবিলা করতে হবে নতুন চ্যালেঞ্জের।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে সেমিনারের আলোচকরা বলেন, স্বল্প সুদে বিদেশি অর্থায়নের সুযোগ কমে গেলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ বাড়বে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর্থিক খাতকে আগেভাগেই প্রস্তুত করা জরুরি বলে তারা মত দেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ব্যাংকগুলো আরও সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন। এ জন্য ব্যাংক খাতে বিদ্যমান নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নীতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খেলাপি ঋণ প্রকৃত অর্থে কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গভর্নর বলেন, “নন-পারফরমিং অ্যাসেট কখনোই বাস্তবে কম ছিল না, কাগজে-কলমে কম দেখানো হতো। বাস্তবে এটি সবসময়ই বেশি ছিল। খেলাপি ঋণ সত্যিকার অর্থে কমাতে না পারলে সুদের হার কমানো সম্ভব নয়।”
এ সময় বিগত আমলে ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের ঘটনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নীরবতারও সমালোচনা করেন গভর্নর। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সময়মতো সোচ্চার না হওয়ায় আজ ব্যাংকিং খাত বড় চাপে পড়েছে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা সার্বিকভাবে বলেন, এলডিসি উত্তরণ ও মুদ্রানীতির চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলায় নীতি সমন্বয়, সুশাসন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au